‘পরিযায়ীরা ঘরে ফিরুন’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আহ্বানে বোঝা গেল, এবার ঘরের ছেলে ঘরেই থাকবে, রাজ্যেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হবে।তৃণমূলজমানাতৃণমূল সরকারের লাস্ট ইনিংস চলছে তখন। বাংল...
‘পরিযায়ীরা ঘরে ফিরুন’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আহ্বানে বোঝা গেল, এবার ঘরের ছেলে ঘরেই থাকবে, রাজ্যেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হবে।
তৃণমূলজমানা
তৃণমূল সরকারের লাস্ট ইনিংস চলছে তখন। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কী অবস্থায় রয়েছেন, তা সামনে আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসুলভ চাতুরি থেকে বিজেপি-শাসিত রাজ্যের উপর বাঙালি-নিগ্রহের দায় চাপাচ্ছেন। যদিও, ইন্ডিয়া জোটের শরিক ও বিজেপি-বিরোধী দলগুলি যেসব রাজ্যে ক্ষমতাসীন, সেখান থেকেও শোনা যাচ্ছে পরিযায়ী-নিগ্রহের কথা। এমতাবস্থায়, পরিযায়ী-নিগ্রহের ঘটনা আদতে বিজেপির বাঙালি-বিরোধিতা ছাড়া আর কিছু নয়, এমনই এক ভাষ্য তৈরি করলেন মমতা। এবং, বাঙালি অস্মিতাকে সামকে রেখে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে নামলেন। কিন্তু, শেষ অবধি দেখা গেল, বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে দু-হাত উপুর করে বিজেপিকে ভোট দিল।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পরিযায়ী-শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ নামক এক উদ্ভট প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকরা বাংলায় ফিরলে তাঁদের মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে, শ্রমশ্রীর আওয়াভুক্ত শ্রমিক ১ বছরের মধ্যে কাজ খুঁজে নিলে ভালো। তারপর, সংসার চালানোর জন্য সামান্য ৫ হাজার টাকার মাসিক ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।
ঘরের ছেলে ঘরেই থাকবে
ছাব্বিশের বিধানসভায় বিজেপির অন্যতম ‘সঙ্কল্প’ ছিল, রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আমূল ইতিমধ্যেই সাড়ে ছশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, বর্ধমানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটির বিনিয়োগ আসবে কিছুদিনের মধ্যেই। ভারী শিল্পের জন্য জমি খোঁজার কাজও শুরু হয়ে গেছে।
শুভেন্দুর পরিযায়ী-আহ্বান
সোমবার উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করুন। কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ছোট-মাঝারি শিল্প, এমনকি সরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান শুরু হবে। অল্প কিছুদিন সময় লাগবে”।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মমতার আমলে শিল্প সম্মেলনে শিল্পপতিরা এসে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের কথা বলতেন। মুকেশ আম্বানি থেকে শুরু করে সঞ্জীব গোয়েন্দা, নক্ষত্রোচিত হয়ে উঠত মমতার শিল্প সম্মেলন। কিন্তু, শেষ অবধি রচনা-কথিত ধোঁয়া ছাড়া আর কিছুই দেখা যেত না।
শুধু তা-ই নয়।
মমতা-জমানার শেষ দফায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬০, ০৫৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। শেষ অবধি যা ১৩৮ কোটিতে এসে থেমে গেছিল।