গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্ম (জেন জ়ি)-র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। সেই স্মৃতি কাটতে না কাটতেই নেপালের ভোট আবহে নেপালে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র, রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আ...
গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্ম (জেন জ়ি)-র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। সেই স্মৃতি কাটতে না কাটতেই নেপালের ভোট আবহে নেপালে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র, রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আবার বিক্ষোভ নেপালে।
জেন জ়ি-র বিক্ষোভে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। এরপর ৫ মার্চ নেপালে হতে চলেছে নতুন নির্বাচন। তার আগে রাজতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভের জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে সেখানে। কারণ
সাধারণ নির্বাচনের আগে নেপালে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ভিড় উপচে পড়ে। সেখানে জড়ো হওয়া সাদারণ মানুষ রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের স্লোগান তোলেন। শনিবার সকাল থেকেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় রাজভক্তদের জমায়েত ছিল চোখে পরার মত। উঠেছে 'রাজাকে ফেরাও' স্লোগান। ফলে ভোটের আগে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা দেখা গিয়েছে।
নেপালে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের তিন দিন পরে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে সে দেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি। এবারের নির্বাচনে ২৭৫টি আসনে ভোট দেবেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
প্রসঙ্গত, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল নেপাল। রাজতন্ত্রের সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থী নেপালি কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশও ‘প্রতীকী রাজতন্ত্রের’ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সেই অশান্তির আশঙ্কা আবারও উসকে দিল রাজা জ্ঞানেন্দ্রের প্রত্যাবর্তন।
ভারতের পড়শি দেশ নেপালে প্রায় দু’দশক আগে রাজতন্ত্র। শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পরে ২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধান।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র নেপালের সাধারণ নাগরিক হিসাবে বাস করেন। তাঁর কোনও রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। এমনকি রাজপ্রাসাদে যাওয়ার অনুমতিও নেই। সরকারি কোনও সুবিধাও তিনি পান না। নেপালে যখন রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেই সময় দেশটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসাবেই পরিচিত ছিল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে নেপালকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে ঘোষণা করা হয়। পরে দেশের সংবিধানেও সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এই আবহে দেশে ফের নির্বাচনের দামামা বেজেছে ৷ সব রাজনৈতিক দলই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে ৷ ভোটের আগে আগেই দেশে ফিরেছেন জ্ঞানেন্দ্র শাহ ৷ বিমানবন্দর থেকে তিনি তাঁর হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে সবাইকে অভ্যর্থনা জানান ৷ পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল ৷ তাও ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান প্রবেশ পথে প্রাক্তন রাজার ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা ৷
এবারে রাজা দেশে ফেরার পর রাজতন্ত্রের সমর্থকরা চিৎকার করে স্লোগান দিতে থাকেন, "রাজাকে ফিরিয়ে আনো ৷ আমরা নিজেদের থেকেও রাজাকে বেশি ভালোবাসি ৷ রাজতন্ত্র পুনর্গঠিত হোক ৷" বিমানবন্দর থেকে যে রাস্তা দিয়ে প্রাক্তন রাজা তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে ফিরছিলেন, সেই রাস্তার দু'ধারে সমর্থকরা সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৷ তাঁরা জ্ঞানেন্দ্রকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ৷ তাঁর বিমানবন্দর থেকে বাসভবনে ফেরার পথে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি ৷
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রাক্তন রাজাকে ফেরাতে সমর্থকরা যাই করুন না কেন, তাঁর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা খুবই কম ৷ কারণ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি এর প্রবল বিরোধিতা করবে ৷ এখন দেখার রাজা জ্ঞানেন্দ্রের প্রত্যাবর্তন নেপালের ভোটবাক্সে কোনও প্রভাব ফেলে কি না।