আরজি করের ঘটনা এখন আর শুধু জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বাস্তবিকভাবেই এক সার্বিক গণ-নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জুনিয়র ডাক্তার তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস’ ফ...
আরজি করের ঘটনা এখন আর শুধু জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বাস্তবিকভাবেই এক সার্বিক গণ-নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জুনিয়র ডাক্তার তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস’ ফ্রন্টের তরফ থেকে নাম না করে বলেন হাথরাস, কাঠুয়া, উন্নাওতে যাঁরা ধর্ষকদের মালা পরিয়েছে, তাঁরাই এ রাজ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য আরজি কর আন্দোলনকে ব্যবহার করতে চাইছেন। রাজ্যের শাসকদলের পাশাপাশি বিজেপিকেও নিশানা করেছেন তাঁরা।
এদিন বৈঠকে সাংবাদিকদের জুনিয়র ডাক্তাররা স্পষ্টই জানান সঠিক বিচার না পেলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে বলেও হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। আন্দোলনকারী ডাক্তারদের পরিচিত মুখ অনিকেত ও দেবাশিষ অভিযোগ করেন, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে হাতিয়ার করে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করতে চাইছেন। এই দলেরই কয়েক জন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং মহালয়ার দিন নির্যাতিতার জন্য জুনিয়র ডাক্তারেরা তর্পণ করবেন বলে ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। এই কর্মসূচীতে জুনিয়র ডাক্তারদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছেন।
বৈঠক থেকে রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর আংশিক কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু-একটি নির্দেশিকা ছাড়া সেভাবে একটি শর্তও প্রয়োগ হয়নি। এরপর তাঁরা বলেন, রাজ্য সরকার যদি রোগী পরিষেবা এবং ডাক্তারদের সুরক্ষার বিষয়ে এই ধরনের গয়ংগচ্ছ মনোভাব নিয়ে চলে, আমরা আন্দোলনকে তীব্রতর করতে বাধ্য হব।
উল্লেখ্য, আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে গত ৯ অগাস্ট থেকে কর্মবিরতি পালন করছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। ৪২ দিন পর সেই কর্মবিরতি আংশিক তুলে জরুরি পরিষেবায় তাঁরা যোগ দিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় তাঁদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তাঁরা। তবে সরকারের কাছ থেকে আদায় করা প্রতিশ্রুতি পালন না হলে আবার যে বৃহত্তর আন্দোলনে পথে নামবেন, সে কথাও জানিয়ে দিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।