সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচের পর তলবে সাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। শনিবার সকাল ১০টায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়। এরপরেই গতকাল সকাল ৯ টা ...
সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচের পর তলবে সাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। শনিবার সকাল ১০টায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়। এরপরেই গতকাল সকাল ৯ টা ৫৪ মিনিটে ভবানী ভবনে ঢোকেন সুমিত রায়। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তারপর বেরিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যান। আজ রবিবার ফের তলব করা হয়। সময়ের আগেই ভবানী ভবনে ঢোকেন তিনি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় শুক্রবার রাতে তাঁকে তলবের নোটিস দেওয়া হয়। সেই তলবে সাড়া দিয়ে শনিবার নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছন সুমিত। জমি কেলেঙ্কারি-সহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে সুমিতের নামে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুধু জমি দুর্নীতি মামলাতে জামিন পেয়েছেন তিনি। শর্ত রয়েছে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে এবং ওই নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। কিন্তু দেখা গেল ১০ ঘণ্টা পর রাত ৮টার পর সিআইডি সদর দফতর থেকে বের হন তিনি। কেন ছিলেন এতক্ষণ এবং কী জিজ্ঞাসাবাদ করল CID তা জানা যায়নি। সেখান থেকে বেরিয়ে সোজা তাঁর গাড়ি গিয়ে ঢোকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে।
শুক্রবার রাতে যখন ক্যানাল রোডে তাঁর বাসভবনে সিআইডির টিম নোটিশ দিতে যায়, তখন তাঁর খোঁজ মেলেনি বলে সূত্রের খবর। অথচ, পরদিনই সকালে আদালতের সুরক্ষাকবচ হাতে সরাসরি তৃণমূলের যুব সংগঠনের গাড়িতে চেপে তাঁর এই আকস্মিক আত্মপ্রকাশ রাজনীতিতে গভীর ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে।
শালবনি জমি কাণ্ডে সুমিত রায় কি কেবলই এক মুখ? নাকি এর নেপথ্যে জড়িত রয়েছে দলীয় প্রশাসন ও ক্ষমতার শীর্ষস্তর? তৃণমূল গাড়ি দিয়ে কি তাঁকে পালাতে এবং লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল? প্রশ্ন উঠছে। আইনের রক্ষাকবচ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলীয় বাহনে চেপে তদন্তকারী সংস্থার সামনে আসা প্রমাণ করে যে এটি কেবল ব্যক্তিগত কোনো দুর্নীতি মামলা নয়, এর শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে রাজনীতির অনেক গভীরে।