ভোটের প্রচার থেকে উস্কানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই এফআইরের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বৃহ...
ভোটের প্রচার থেকে উস্কানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই এফআইরের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও কীভাবে উনি প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলেন, তা জানতে চান বিচারপতি।
এদিন অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারকের প্রশ্নে বিদ্ধ হয়ে তিনি উত্তর দেন, রাজনৈতিক উত্তাপে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক। কল্যাণ আরও বলেন, 'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতারা সভা থেকে এমন মন্তব্য করে ফেলেন।' যদিও এই যুক্তিতে চিড়ে ভেজেনি। পাল্টা বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, 'অন্য কারও বিষয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছে না। আপনি আদালতে এসেছেন তাই আপনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক এমন মন্তব্য করবেন কেন? তাঁর কাছ থেকে কি এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য আশা করা যায়?' তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ, 'আপনি বলছেন আপনার মক্কেল সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তিন বারের সাংসদ। তিনি কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন? নির্বাচনের আগে কেন এমন করা হবে? যে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মতো কালো ইতিহাস রয়েছে।'
এরপরেই আদালত বিবেচনা করে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিষেককে স্বস্তি দেয়। জানান হয়, আপাতত সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিস। তবে তদন্তে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে সাংসদকে। তদন্তে তিনি সহযোগিতা না করলে আদালতে আবেদন জানাতে পারবে পুলিস। পাশাপাশি অভিষেককে তলব করতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে বলেও আজ জানিয়েছে হাই কোর্ট। এরপরেই এফআইআর খারিজের আর্জি নাকচ করে আগামী ২০ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন স্থির করেন বিচারপতি।