চলতি মাসের ৪ তারিখ বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়। বাংলায় তৃণমূল জমানার তর্জন-গর্জন শেষ হয় ১৫ বছর পর। এবং, ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুখ্যমন্ত্রীর আসন হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেই আসনে ব...
চলতি মাসের ৪ তারিখ বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়। বাংলায় তৃণমূল জমানার তর্জন-গর্জন শেষ হয় ১৫ বছর পর। এবং, ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুখ্যমন্ত্রীর আসন হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেই আসনে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। বাকিটা ইতিহাস।
নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বেআইনি নির্মাণকে নিশানা করে। কলকাতা থেকে জেলা, গত ১৫ বছরে পূর্বতন শাসকদলের সৌজন্যে কত-যে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। শুধু তা-ই নয়। প্রায় প্রতিটি তল্লাটে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে। এমতাবস্থায়, পৌরসভা অনুমোদিত নকশা ছাড়া যেখানে-যেখানে ঘাসফুলের পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে, সেখানে এবার চলছে ভাঙন-যজ্ঞ। বুলডোজারে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই সব অবৈধ নির্মাণ।
বেলেঘাটা অঞ্চলে গৃহস্থের বাড়ির একাংশ দখল করে রমরমিয়ে চলছিল তৃণমূলের পার্টি অফিস। এমনকি, ধাপে-ধাপে সেখানে অবৈধ নির্মাণও চলতে থাকে। স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুরাহা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন বাড়ির মালিক। কিন্তু সবাই নিরুত্তর থেকে যান। এমতাবস্থায়, পার্টি অফিস ও তার নিত্যদিনের হুল্লোড় সহ্য করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর কৌশলের সঙ্গে পার্টি অফিসের বোর্ড-টোর্ড সরিয়ে ফেলে সেখানে ব্যায়াম সমিতি করা হয়। এবং, রং বদলানো হয়। তবে গেরুয়া রঙে রঞ্জিত করেও কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন, বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিস ও পৌরসভার সহযোগিতায় এই নির্মাণ ভেঙে দেন।
দৃষ্টান্ত এমন অনেক রয়েছে। কলকাতায় যত-না, জেলায় তার চেয়ে অনেক বেশি। অনুমোদিত নকশা ছাড়াই গড়ে উঠেছে তৃণমূলের পার্টি অফিস। হয় কোনও বাড়ির লাগোয়া, নয়তো ফাঁকা কোনও জমিতে।
এবার একে-একে ভাঙা পড়ছে সেইসব বেআইনি নির্মাণ। এবং, ঠাঁইনাড়া হচ্ছে তৃণমূল।
এখানেই শেষ নয়। ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বাড়িতে তৃণমূলের অস্থায়ী সদর দফতর চালু হয়েছিল কয়েকবছর আগে। ওই বাড়ির মালিক মণ্টু সাহা হলেন কলকাতার প্রথম সারির ডেকরেটর সংস্থা মর্ডান ডেকরেটর্সের মণ্টু সাহা। দাবি করা হয়, তৃণমূল আমলে বিপুল কাজের বরাত পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, হাওয়া ভালো নয় বুঝে তিনিও তাঁর বাড়ি খালি করার বার্তা দেন তৃণমূল নেতৃত্বকে।
সবমিলিয়ে, সর্বত্র ও যত্রযত্র ঠাঁইনাড়া হয়ে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।