দলীয় প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হয়েছে আগেই। শেষে নন্দীগ্রামে প্রার্থীও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমতাবস্থায় দলের করুণ সময়ে জোটের শরণাপন্ন হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করলেন, আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তিন...
দলীয় প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হয়েছে আগেই। শেষে নন্দীগ্রামে প্রার্থীও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমতাবস্থায় দলের করুণ সময়ে জোটের শরণাপন্ন হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করলেন, আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তিনি কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। রেজিনগর আসন নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানালেন। শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বলেন, ‘আমরা সিস্টার পার্টি, স্বাভাবিক জোটকে সমর্থন করব। কোনও মতেই বিজেপিকে সমর্থন করব না।’
মমতা জানান, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের টিকিটে লড়বেন মিলন প্রধান। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে তাঁর দলের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর তারপরই জোট নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মমতা। তবে এই সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, 'আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কংগ্রেসকে সমর্থন করব। নিজেদের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কংগ্রেস জানত না। ভবিষ্যতের জোটের জন্য বার্তা দিতে চাই। বাংলা থেকে শুরু হোক সেই কাজ।'
প্রসঙ্গত, ২৯ বছর আগে কংগ্রেস ছেড়ে জোড়াফুল প্রতীকে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন মমতা। কমিশনের নির্দেশে এবার সেই জোড়াফুল প্রতীক এবং 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম কোনও শিবিরই ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা শিবিরের নতুন নাম 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' এবং তাদের প্রতীক 'ফুটবল পায়ে ফুটবলার'। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নাম 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' এবং প্রতীক 'খাম'। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, 'আজ গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। যা হচ্ছে দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী, পলিটিক্যালি বায়াসড। একটা রাজনৈতিক দলের স্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে।'
এই প্রসঙ্গেই তিনি উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পাওয়ারের দলের উদাহরণ টানেন মমতা। বলেন, ‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপিকে ভেঙেছে। এবার আমাদের।’ কমিশনকে নিশানা করে তাঁর আরও মন্তব্য, ‘ঝুটা এসআইআর, ঝুটা ভোট করেছে। মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করেছে কমিশন।’ তবে তিনি মাথা নত করবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন। মমতার কথায়, ‘দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দল গড়েছি। ২৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, ২৯তম বছরে পড়েছে।’ একই সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরকেও 'বিজেপির দালাল' বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যদি কেউ তৃণমূলকে ভালবাসত, তাহলে এভাবে মা’কে কেড়ে নিত না। জোড়াফুল রক্ত দিয়ে গড়া।'
মমতা জানান, রাহুল গাঁধী বৃহস্পতিবার তাঁকে ফোন করেছিলেন, কথা হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও। তাঁর বার্তা, ‘আমরা একসঙ্গে লড়ব। বিজেপিকে ছাড়ব না।’ সঞ্চিতার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে মমতা বলেন, ‘ও বলেছিল লড়বে। ওকে ভয় দেখিয়েছে। কী করবে? এ নিয়ে আমার কোনও ক্ষোভ নেই।’