গোটা বাংলার উন্নয়নে নজর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের। বাংলাকে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে একাধিক পদক্ষেপ রাজ্যের। শুক্রবার বিধানসভায় পুরবাজেট পেশ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্র...
গোটা বাংলার উন্নয়নে নজর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের। বাংলাকে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে একাধিক পদক্ষেপ রাজ্যের। শুক্রবার বিধানসভায় পুরবাজেট পেশ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গোটা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ মন্ত্রীর। বাজেট পেশ করতে গিয়েই পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। তিনি বলেন, আগের সরকারের মাননীয় মন্ত্রী মেয়রও ছিলেন। তিনি গোটা রাজ্যের কথা ভাবতেন কিন্তু ফান্ড বরাদ্দের সময় শুধু কলকাতার কথা মাথায় আসত। রাজ্যের উন্নয়ন বাজেটের ৫০ শতাংশ শুধু কলকাতাকে দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান সরকারে ভাঙল সেই প্রথা। শুধু কলকাতাই নয়, গোটা বাংলাতেই একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ রাজ্যের। প্রতিটি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ এবং রাস্তায় ময়লা ফেলা পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশেষ গুরুত্ব। ৭৫ হাজার জন নির্মল বন্ধু, ৬ হাজার জন নির্মল সাথী বর্জ্য সংগ্রহ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। ময়লার গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যজুড়ে চালু হচ্ছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতে সরকারের ‘মুখোমুখি’ কার্যক্রম।
পরিবেশবান্ধব উপায়ে আবর্জনা কমাতে বাজার ও মন্দিরে ব্যবহৃত ফুল থেকে ধূপকাঠি ও আবীর তৈরি এবং পুকুরের ৫০ শতাংশ কচুরিপানা দিয়ে হস্তশিল্প বানানোর উদ্যোগ, যা কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাবে। প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে আনা হচ্ছে ‘বটল ক্রাশার’। যেখানে প্লাস্টিকের বোতল ফেললেই মিলবে বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়ে জামাকাপড় ও রাস্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।
সারা রাজ্যের টুরিস্ট স্পটে পাবলিক টয়লেট তৈরি করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু ফেলা বা প্রস্রাব করার ওপর কড়া জরিমানা জারি। আবাসন ও বাড়িগুলিতে বাধ্যতামূলক বৃষ্টির জল সংগ্রহের মাধ্যমে তা বাথরুম ও কাপড় কাচার কাজে ব্যবহারে জোর। আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ড ব্যবহার করে কলকাতায় তৈরি হবে ‘রিং রোড’। হিল টাউন উন্নয়ন দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিক-এ।
‘মা আহার’ প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে ডিম, মাছ ও নিরামিষ পদ, মিলবে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। কলেজস্ট্রিটকে লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে তৈরি। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ খোদ প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে এই বাজেট তৈরি করা একটা চ্যালেঞ্জ। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেটি করে দেখিয়েছেন।
সব মিলিয়ে পুর বাজেটে নজিরবিহীন পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের শঙ্খধ্বনি বাজল বিধানসভা থেকে। এবার শুধু বাস্তবায়নের পালা।