আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। তবে তদন্তে নেমে সিবিআই জানায়, সেই আখতারও আর্থিক কেলেঙ্কারিত...
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। তবে তদন্তে নেমে সিবিআই জানায়, সেই আখতারও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। আখতার আলিকে জেল হেফাজতে যেতে হয়। আরজি কর আর্থিক দুর্নীতির জন্যই জেল হয়েছে তাঁর। মঙ্গলবার আরজিকর আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আদালতে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই ।
সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী এদিন আদালতে জানান আপনি যা সাবমিট করছেন আর যা বলছেন তাতে আকাশ পাতাল তফাৎ। তাহলে আপনি এক্ষেত্রে জায়গা রেখে দিচ্ছেন! অর্থাৎ সিবিআই -এর তদন্ত কোনও দিন শেষ হচ্ছে না। সিবিআই-এর আইনজীবী আদালতকে জানান, আমরা তো সেরকম বলিনি। যা বক্তব্য স্পষ্ট লেখা আছে। আদালত সূত্রে জানা যায় ২৫ ফেব্রুয়ারী এই মামলার চার্জ গঠন ।
এদিকে আখতার আলিকে আদালতে পেশ করার সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে ? আকতার আলী উত্তর দেন' আদালতের যা নিয়মকানুন তা মেনেই আমি আদালতে এসেছি। যা নিয়ম কানুন তা মেনে আগামী দিনে আদালতের নির্দেশ পালন করব। লিগাল প্রসেসের জন্য আমার আইনজীবী রয়েছেন। আদালত যা সীদ্ধান্ত নেবে মাথা পেতে নেব।'সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন-এই দুর্নীতির টাকা কি আপনার? আকতার আলী উত্তরে জানান- না। আমার নয়।
ফলে এবার আরও বিপাকে আখতার আলি। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম করতে চলেছে সিবিআই। এই মর্মে আজ মঙ্গলবার আলিপুর সিবিআই আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন সিবিআইকে চার্জ ফ্রেম অনুমতি দেয়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত আখতার আলির বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম হবে। সেদিন তাঁকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছে আলিপুর আদালত।
আর জি কর কাণ্ড নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি সেই সময় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন ওই হাসপাতালেরই প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডি যাতে তদন্ত চালায় সেই আবেদন জানানো হয়। এরপরেই আদালতের নির্দেশে সিবিআই এবং ইডি তদন্ত চালাচ্ছে। মামলার তদন্তে সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করে সিবিআই। গ্রেফতার হন সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী। তদন্তে নেমে সিবিআই জানায়, আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত আখতারও। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু আদালতে তারা দাবি করে, তদন্তের স্বার্থে বার বার আখতারকে সমন পাঠিয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু হাজিরা দেননি তিনি। এদিকে অসুস্থতাকে ঢাল করে হাই কোর্টে আগাম জামিনের জন্য আখতার আবেদন জানাচ্ছে বলেও আদালতে অভিযোগ জানায় সিবিআই। হাইকোর্টে এরপরেই আখতার আলিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ১৭ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই মেয়াদ শেষে মঙ্গলবার ফের আখতার আলিকে আদালতে পেশ হয়।