ভোটের আগে শুভেন্দু গড়ে বড়সড় ভাঙ্গন। ময়না বিধানসভা থেকে তৃণমূলে যোগদান করলেন বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী চন্দন মণ্ডল। তিনি তিনবারের বিজেপি জেলা কমিটি সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা কমিটি সদস্য। এন...
ভোটের আগে শুভেন্দু গড়ে বড়সড় ভাঙ্গন। ময়না বিধানসভা থেকে তৃণমূলে যোগদান করলেন বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী চন্দন মণ্ডল। তিনি তিনবারের বিজেপি জেলা কমিটি সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা কমিটি সদস্য। এনেকই মনে করেন ময়না এলাকায় বিজেপি জেতার কারিগর ছিলেন চন্দন মণ্ডল। অর্থাৎ ময়না এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে চন্দন মণ্ডল যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এদিন তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ চন্দন মণ্ডলকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি চন্দন মণ্ডলের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন।
চন্দন মণ্ডল যে পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুলে আসতে চলেছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিলই। শুক্রবার তাতেই সিলমোহর পড়ল। ২৬ এর বিধানসভা ভোটের মুখে বিজেপির মধ্যে ভাঙ্গন রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কুণাল ঘোষ এদিন বলেন বিজেপির পুরনো নেতাদের প্রতি নব্য় নেতাদের ব্যবহারই বিজেপির পুরনো নেতাদের মন ভেঙে দিয়েছে।
২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জোরালো ভাবে উঠে এসেছিল চন্দনের নাম। কিন্তু শেষ দল তাকে টিকিট না দিয়ে টিকিট দিয়েছিল ক্রিকেটার অশোক দিন্দাকে। নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এর পরেই বদলে যায় ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে চন্দন দাবি করেন,মানুষের পাশে থেকে কাজ করার জন্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু মানুষের হয়ে কাজ করার পরিবেশ সেখানে নেই। তিনি অভিযোগ করেন 'ময়নার অনেক জায়গায় লক্ষীর ভাণ্ডার আটকে রয়েছে। ' কুণাল চন্দ্রিমার পাশে বসে দল বদল করেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব চন্দন।
তিনি বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে চিঠি লিখি। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, সকলে খুব দ্রুত টাকা পাবেন। এর পরে তাঁরা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এখনও পাঁচ-ছয় মাসের টাকা বাকি। আমি আবেদন করেছি, এই টাকা যাতে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।"
চন্দন জানিয়েছেন "তৃণমূলে যোগদান আমার নৈতিক সিদ্ধান্ত। ময়নার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে উন্নয়নমুখী শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছি।"আশোক দিন্দাকে নিয়েও সরব হন চন্দন, তিনি অভিযোগ করেন "এতদিন ময়নার বিজেপি বিধায়ক আশোক দিন্দা এলাকাবাসীর জন্য কোনও কাজ করেননি। তাই নৈতিকতার জেরে তৃণণূলে যোগ দিলাম।"
ময়নার রাজনৈতিক মহলে এমনই আলোচনা শোনা যায় যে বিজেপির হয়ে একচেটিয়া ভোট করাতেন চন্দন মণ্ডল । ফলে তিনি ফুল বদল করায় বিধানসভা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে যে চাপ বাড়ল তা বলাইবাহুল্য।