মুহূর্তেই বদলে গেল ছবিটা। আনন্দ উল্লাস পরিণত হল কান্নার রোলে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিভীষিকাময় এক রাতের সাক্ষী থাকল চোরবাগান সর্বজনীন। চোরবাগানে রবিবার সকাল পর্যন্ত পদপিষ্টের ঘটনায় শিশু সহ ১৯ জনের মৃত্যুর ...
মুহূর্তেই বদলে গেল ছবিটা। আনন্দ উল্লাস পরিণত হল কান্নার রোলে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিভীষিকাময় এক রাতের সাক্ষী থাকল চোরবাগান সর্বজনীন। চোরবাগানে রবিবার সকাল পর্যন্ত পদপিষ্টের ঘটনায় শিশু সহ ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। তবে বসে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খবর পাওয়া মাত্রই রাতারাতি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহত ও মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের এজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, আহতরা যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান, সেখানেই করাতে পারবেন। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। চোরবাগান কাণ্ডে রবিবার সকাল পর্যন্ত গ্রেফতার পুজো কমিটির ৭ জন।
পুজোয় এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে। ARS-এর তরফ এ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে যাঁদের দেখা যাচ্ছে গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। এছাড়াও তিনি আরও জানান, সিটিং জাজ এর দাড়া সিট গঠন করা হবে।
তবে শুধু রাজ্য সরকার নয়, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা। অন্যদিকে ঘটনায় সমালোচনাকারী বিরোধীদের কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া একাধিক দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।
পুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং। সেই মত সপ্তমীর সন্ধ্যায় কেউ গিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে কেউ আবার প্রিজনের সঙ্গে। ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদের পরিণত হল। মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে আর বাড়ি ফিরলেন না অনেকেই। ফিরল তাদের নিথর। ঘটনাস্থল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জুতো, বোতল, খাবারের প্যাকেট। প্রাণ বাঁচাতে ছুটেছিলেন অনেকেই তবে ভাগ্য সায় দেয়নি। তবে গাফিলতি থাকলে ছাড় পাবেনা কেউই। স্পষ্ট বার্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার।