বুধবারের রেশ বৃহস্পতিবারেও। উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা কক্ষ। স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণাল ঘোষের ঘটনাকে 'কলঙ্কজনক' বলে বর্ণনা করায়, তীব্র আপত্তি জানান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। স্পিকারের সঙ্গেই বাদানুবাদে জ...
বুধবারের রেশ বৃহস্পতিবারেও। উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা কক্ষ। স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণাল ঘোষের ঘটনাকে 'কলঙ্কজনক' বলে বর্ণনা করায়, তীব্র আপত্তি জানান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। স্পিকারের সঙ্গেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন কুণাল। নিজের আসন ছেড়ে উঠে যান স্পিকারের কাছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে চান কালীঘাট-তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে স্পিকার প্রশ্ন করেন,কোন বিষয়ে কথা বলতে চান তিনি। উত্তরে শোভনদেব জানান, গতকালের ঘটনা নিয়েই কথা বলতে চান তিনি। স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। 'বিধানসভার ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা খুব কম ঘটেছে, এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের আর পুনরাবৃত্তি হবে না।' এই 'কলঙ্কজনক' শব্দ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন কুণাল-শোভনদেবরা। বারবার তিনি বলতে চান, 'কলঙ্কজনক' শব্দ ব্যবহার না করতে।
এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি ৯০ সাল থেকে রিপোর্টার হিসেবে এই হাউজে আসছি, আপনি কেন এটাকে কলঙ্কজনক বললেন?” পাল্টা কড়া সুরে স্পিকার প্রশ্ন করেন, “আপনাকে আমি গতকাল তিন বার বসতে বললাম, আপনি কেন ওখানে গেলেন? কেন ধাক্কাধাক্কি করলেন?” স্পিকারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কুণাল দাবি করেন, তিনি কোনও ধাক্কাধাক্কি করেননি।
এই কথাকাটাকাটির মাঝেই বিধানসভার সচিবের আসনের দু’পাশে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়েন বিজেপি ও তৃণমূলের বিধায়কেরা। এক পাশে অবস্থান নেন বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি এবং অন্য পাশে কুণাল ঘোষ। দু'জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার বিধানসভায় একে একে বক্তব্য রাখছিলেন বিধায়কেরা। তাল কাটে আখরুজ্জামান বক্তব্যে রাখতে উঠলে। তাঁর বক্তব্যের মাঝেই, এগিয়ে যান কল্যাণ। সেখানেই হইচইয়ের সূত্রপাত। বাদ-বিবাদের মাত্রা বাড়লে, এক সময় কুণালকে বিধানসভার কক্ষের মধ্যেই মার্শালদের টেনে-হিঁচড়ে বের করতে দেখা যায়। বিধানসভার স্পিকার নির্দেশ দিলে মার্শালরা তাঁকে বের করে দেন। প্রাথমিকভাবে তিনি সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দেন এবং পরে সাসপেন্ড করে দেন।