বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে , বাংলায় বামেদের সঙ্গ ছেড়েছে হাত শিবির। কংগ্রেসের এবারের নীতি ফল যাই হোক ভোট ময়দানে একাই লড়বে তারা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারে দাবি এই সিদ্ধান্ত একেবারে গ্রাস...
বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে , বাংলায় বামেদের সঙ্গ ছেড়েছে হাত শিবির। কংগ্রেসের এবারের নীতি ফল যাই হোক ভোট ময়দানে একাই লড়বে তারা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারে দাবি এই সিদ্ধান্ত একেবারে গ্রাসরুট লেভেলের কর্মীদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু কোথাও গিয়ে এই সিদ্ধান্ত কি মেনে নিতে পারছে বামেরা। বাম নেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে তার যে জায়গায় সেই জায়গাতেই আছে, মত বদলেছে কংগ্রেস। আর এই আবহে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর তরজা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। একা লড়ে ভাল ফল করতে যখন আত্মবিশ্বাসী শুভঙ্কর ঠিক তখনই বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি দায় নিতে হবে কংগ্রেসকেই। পিছিয়ে গেছে কংগ্রেস, কারণ বামেরা যে জায়গায় ছিল এখনও সেই অবস্থানেই আছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের একলা চলো নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তবে, শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে চলা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। সুজন চক্রবর্তী বলেন, "বহুদিন বাদে রাজ্যে কংগ্রেস এলাকা ২৯৪ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভালো। সাধারণভাবে বামপন্থী মানুষও চাইছিলেন বটে, এই হাফ-হার্টেড কংগ্রেসকে নিয়ে লড়াই করার দরকার কী! দোনামনা মনোভাব নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়া যায় না।"
শিলিগুড়ি মডেলকে' সামনে রেখে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে একের পর এক ভোটে লড়েছে বামেরা। তবে ভোটযুদ্ধে সেই জোট তেমন একটা দাগ কাটতে পারেনি। উল্টে বারবার হয়েছে ভরাডুবি। কমতে থেকেছে ভোটের হার।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফল করে জোট। সেই ভোটে একটাও আসন পায়নি তারা। ফলে আপাতত বিধানসভায় একজন প্রতিনিধিও নেই জোটের।
এমনকী ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ফলও হয় খুবই খারাপ। বামেরা এবারও শূন্য। আর কংগ্রেস পায় মাত্র ১টি আসন। এই ভোটগুলিতে বাম-কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে বিজেপি-কে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে বেছে নেয় বাংলার মানুষ।
আর বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটা মোড় নেওয়ার পরই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। এমনকী বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২৯৪টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
শুভঙ্কর সরকার জানান, 'বাংলার কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কংগ্রেস শক্তিশালী হলেই বাংলায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসার উন্নতি হবে। তাই সবার প্রথমে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করাই লক্ষ্য।'
' ২৯৪টি আসলে লড়াই করার মতো জায়গায় যেতে হবে কংগ্রেসকে। তাহলেই তো অন্য কেউ পাশে এসে দাঁড়াতে চাইবে। অথবা আমরা অন্য কারও পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারব। তাই সবার প্রথমে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।'