বিধানসভায় শাসক ,বিরোধীর নিরাপত্তা সমান অধিকার হোক।বিরোধী দলনেতা র নিরাপত্তারক্ষীদের বিধানসভার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক শুভেন্দু অধিকারীর এই আবেদনের মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হ...
বিধানসভায় শাসক ,বিরোধীর নিরাপত্তা সমান অধিকার হোক।বিরোধী দলনেতা র নিরাপত্তারক্ষীদের বিধানসভার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক শুভেন্দু অধিকারীর এই আবেদনের মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি স্থগিত। তার মধ্যে আদালত জানতে চায় বিধানসভার নোটিস সব পক্ষ পেয়েছে কি না। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এদিন আদালতে জানান,
সেক্রেটারি অফ লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিল, বিধানসভার সমস্ত সদস্যের জন্য সমান নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কাউকেই তাদের সিকিউরিটি নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর পরে মামলা খারিজ হয়ে যায়।
তারপরে ২০২৫ সালের ৩০ অগাস্ট নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছিল বিধানসভার কোনও সদস্য নেতা মন্ত্রী তাদের সিকিউরিটি নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এর পরেও ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ঢোকেন।বিচারপতি জানতে চান, অন্য কোনও মন্ত্রীকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল?
বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, সেটা আমরা জানি না। ওই ঘটনার পরই কন্টেম্পট অ্যাপ্লিকেশন করা হয়েছিল।এই মামলায় পাঁচ বার মুলতুবি চাওয়া হয়েছিল রাজ্যের তরফে কারণ তারা এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চায় না।
বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে এজি জানান, এই মামলায় বেশ কয়েকবার মুলতুবি চাওয়া হয়েছিল কারণ আমি চেয়েছিলাম এই মামলার মেইনটেনেবিলিটি নিয়ে লড়তে। এখানে যে নির্দেশ অগ্রাহ্য করা হয়েছে সেটি একবার দেখা হোক। আমি এজি হিসেবে স্পিকারের নির্দেশ মত তাঁর মতামত আদালতকে জানিয়েছি যা অ্যাসেম্বলি সেক্রেটারির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। যেখানে সেক্রেটারি জানিয়েছিল সমস্ত বিধানসভা সদস্যকে সমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হবে। আদালতও সেই অনুযায়ী নির্দেশ দিয়েছিল। এখানে আদালত যখন জানতে চায় বিধানসভার অন্য কোনও সদস্যকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে কিনা তার জবাব আবেদনকারীর আইনজীবী দেন নি। এই মামলার কন্টেম্পট অ্যাপ্লিকেশনে বলা হয়নি যে বিধানসভার বাকি সদস্যদের বা শাসকদলের নেতা মন্ত্রীদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই মামলা একেবারেই কন্টেম্পট এর বিষয় নয়। এই মামলার মেইনটেনেবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন আপনি এখনও মনে করেন এই নোটিশ সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে অ্যাপলিকেবল হয়েছে?এজি জানান সবার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া।বিচারপতি জানতে চান মুখ্যমন্ত্রীকে এক্সেপশন কেন?এজি জানান কিছু এক্সেপশন থাকা উচিত।বিচারপতি বলেন এই ধরণের একটা প্রটেক্টেড এরিয়া যেখানে এত জন লেজিসলেচার রয়েছেন সেখানে একজন সদস্য কেন এত নিরাপত্তাহীন মনে করবেন নিজেকে? এজি জানান এই অনুমতি স্পিকার নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছিলেন।বিচারপতি জানতে চান এখানে প্রয়োজনীয়তা আছে কি ? নাকি এটা শুধুমাত্র দেখানোর জন্য যে আমি বিধানসভায় যাচ্ছি প্রচুর নিরাপত্তা নিয়ে? এজি বলেন আমি এই বিষয়টা নিয়ে রিট স্টেজে লড়তে চেয়েছিলাম। তবে এটা কনটেম্পট- এর বিষয় নয়।
বিচারপতি মন্তব্য করেন আমি প্রথমেই বলেছিলাম আমি ওই বিষয়ে যেতে চাই না। এখানে শুধুমাত্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট থাকে তাহলে এটা প্রয়োজনীয় নয়। এধরনের মামলায় আদালতের সময় নস্ট হয়। এজি বলেন আমার অভিমত এই বিষয়টি স্পিকার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক যারা এই নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেন।বিচারপতি বলেন এটা আপনার দায়িত্ব একজন এজি হিসেবে বিধানসভার স্পিকারকে বোঝানো যে তিনি কিভাবে কাজ করবেন।এজি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন আমি? বিচারপতি উত্তর দেন, হ্যাঁ। এজি হিসেবে এজি বলেন এখানে চারটি কনস্টিটিউশনাল অথরিটি আছে । এক বিচারপতি, দুই এজি, তিন মুখ্যমন্ত্রী এবং চার স্পিকার। বিচারপতি বলেন, আর আপনার দায়িত্ব এদের মধ্যে দুজনকে পরামর্শ দেওয়ার।
এজি বলেন একজন কনস্টিটিউশনাল অথরিটির আরেকজন কনস্টিটিউশনাল অথরিটির ওপর ভরসা করা উচিত। তাই আমার অনুরোধ এই কন্টেম্পট- এর মামলা খারিজ করা হোক এবং এই বিষয়টি যাদের দায়িত্ব তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক।আমি জানি না এই ধরনের মামলা এত টানা হচ্ছে কেন?
সব শেনার পর বিচারপতি জানান ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি স্থগিত। এবং তার মধ্যে আদালত জানতে চায় ২০২৫ সালের ৩০ অগাস্ট যে নোটিশ বিধানসভার তরফে দেওয়া হয়েছিল তা সবার জন্য অ্যাপ্লিকেবল হয়েছিল কিনা।