যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এবার নতুন মাত্রা পেল। এতদিন অভিযোগ ছিল আয়োজকদের তরফে। এবার সরাসরি মেসির টিমের তরফ থেকেই পৌঁছে গেল একটি বিস্ফোরক ই-মেল। আর সেই ...
যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এবার নতুন মাত্রা পেল। এতদিন অভিযোগ ছিল আয়োজকদের তরফে। এবার সরাসরি মেসির টিমের তরফ থেকেই পৌঁছে গেল একটি বিস্ফোরক ই-মেল। আর সেই ই-মেলে আঙুল তোলা হয়েছে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকেই। বিধাননগর পুলিস কমিশনারের কাছে পাঠানো ওই ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সূচি ভেঙে পড়ে। মেসির নিরাপত্তা বলয় বারবার লঙ্ঘিত হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
অভিযোগ আরও গুরুতর। মেসির টিমের দাবি, তৎকালীন মন্ত্রী বারবার মেসির কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন, তাঁর কাঁধ ও কোমরে হাত রাখেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে এমন অনেক মানুষ মাঠে ঢুকেছিলেন, যাঁদের প্রবেশের কোনও অনুমতি ছিল না। যেখানে মাত্র তিনজন আলোকচিত্রী থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মাঠে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। মেসির টিমের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ফুটবল মহাতারকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়। ই-মেলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই বিশৃঙ্খলার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত দায়ী নন।
এই ই-মেল প্রকাশ্যে আসার পর মেসি-কাণ্ডের তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ইতিমধ্যেই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর তদন্ত চলছে। যদিও গ্রেফতারি এড়াতে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অস্থায়ী রক্ষাকবচ পেয়েছেন। আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিধাননগর পুলিসকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করেছেন অভিযোগকারী শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল, যার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিয়েছিলেন। সেই টিকিট পরিচিতদের মধ্যে বিলি করার পাশাপাশি বিক্রিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। একসময় যে অনুষ্ঠানকে বাংলার ফুটবলপ্রেমের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়েছিল, আজ সেই অনুষ্ঠানই পরিণত হয়েছে আইনি লড়াই, অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। আর এখন প্রশ্ন একটাই— মেসির টিমের এই ই-মেল কি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? নাকি আদালতেই হবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি?