ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে হাজার পনেরো ভোটে পরাজিত করেছেন। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে, তিনি কি ফের কোনও বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন? প্রার্থী হয়ে বিধানসভার ভিতর বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন?
চর্চায় ছিল অধিকারী-গড়ের নন্দীগ্রাম বিধানসভা। এবং, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা।
তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করে নিজের দল তৈরি করেছেন: জনতা উন্নয়ন পার্টি। নিজের দলের প্রতীকে দু-দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়েছিলেন তিনি এবং জিতেওছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, একসঙ্গে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যেতে পারে ঠিকই। কিন্তু, দুটিতেই বিজয়ী হলে একটি আসন ছেড়ে দিয়ে হয় সেই প্রার্থীকে। এমতাবস্থায়, শুভেন্দু অধিকারী যেমন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে ছেড়ে ভবানীপুরকে বেছে নিয়েছেন, ঠিক তেমনই, হুমায়ুন কবীরও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রটিকে ছেড়ে দিয়েছেন।
একুশের বিধানসভায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচবছর পর ফের সেই নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর ঝুঁকি তিনি নেবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এদিকে, হুমায়ুন কবীর তাঁর প্রাক্তন দলনেত্রীকে ‘বন্ধুত্বে’র অছিলায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, রেজিনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন মমতা।
যদিও, এই জল্পনার মাঝেই কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে মামলা ঠুকেছেন তৃণমূল নেত্রী। অভিযোগ নতুন কিছু নয়, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে। নইলে তিনিই জয়ী হতেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদি সত্যিই নন্দীগ্রাম বা রেজিনগর থেকে লড়ার ধক থাকতো মমতার, তাহলে ভবানীপুর নিয়ে মামলা না-করে সোজা নির্বাচনী ময়দানে নামতেন তিনি। প্রসঙ্গত, বামজমানার শেষে নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ হয়ে উঠেছিল। এবং, ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া তুলেছিল। অন্যদিকে, রেজিনগর বিধাসনভা কেন্দ্রটি পুরোপুরি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এই কিছুদিন আগে অবধিও ঈর্ষণীয় ছিল। বাংলায় অভিনব ইমাম-ভাতা চালু করা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু রেজিনগর থেকেও দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন না। অন্তত, তৃণমূল-সূত্রে তেমনই খবর।