রাজ্যে প্রথম নিপা সংক্রমণে মৃত্যু তরুণী নার্সের। দীর্ঘ ৩৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের কুয়ারপুর গ্রামে। ...
রাজ্যে প্রথম নিপা সংক্রমণে মৃত্যু তরুণী নার্সের। দীর্ঘ ৩৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের কুয়ারপুর গ্রামে। আজ, শুক্রবার দেহ এলো কাটোয়ার মঙ্গলকোটের কুয়ারপুর গ্রামে।
নার্সের মৃত্যুর পরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা স্বাস্থ্য ভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন। নিপা ভাইরাস সংক্রমণজনিত আশঙ্কা থাকায় দেহ হস্তান্তর নিয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, মৃত্যুর দু’দিন আগে তাঁর নিপা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
যদিও চিকিৎসাকালীন সময়ে সম্পূর্ণ সতর্কতা মেনে পিপিই কিট পরে স্বাস্থ্যকর্মীরাই তাঁর পরিচর্যা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত নেগেটিভ রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার রাত প্রায় দু’টো নাগাদ তাঁর দেহ পৌঁছয় মঙ্গলকোটের কুয়ারপুর গ্রামে। শনিবার সকালে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে কাটোয়া মহাশ্মশান ঘাটে, সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
অল্প বয়সে এক তরুণী স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা গ্রাম। পরিবার ও গ্রামবাসীদের ইচ্ছে ছিল শেষবারের মতো তাঁদের গ্রামের মেয়েকে একবার দেখার। সেই ইচ্ছে পূরণ হলেও, জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। শোক আর আক্ষেপে ভারী হয়ে উঠেছে কুয়ারপুর গ্রামের।
প্রসঙ্গত, গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে অসুস্থ ছিলেন ওই তরুণী নার্স। এরপর ১০ই জানুয়ারি তাঁকে বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। সূত্রের খবর, মাঝে ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়েও ছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু ফের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা যায়, দীর্ঘ দিন ক্রিটিকাল কেয়ারে থাকার ফলে তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। এরপর ফের তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফের ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।