প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে আজই। এমতাবস্থায়, রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থীর বৈধ ভোটার কি না, তা নিয়ে এদিন দুপুরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ট্রাইবুনালকে। এবং, সেই নির্দেশ এল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে।
প্রসঙ্গত, মালদহের রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী মোত্তাকিন আলমের নাম ছিল বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) তালিকায়। এরপর সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও তাঁর নাম ওঠেনি। এদিকে, সোমবারই প্রথম দফার মনোনয়নের শেষ দিন। এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই কংগ্রেস প্রার্থী। এবং, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, এদিন দুপুরের মধ্যেই ট্রাইবুনালকে বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, মোত্তাকিন আলম বৈধ ভোটার কি না।
প্রসঙ্গত, রবিবার ট্রাইবুনালের প্রথম রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে বৈধ ভোটার বলে ঘোষণা করেন। মহতাবও কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ছিলেন। তারপর তিনি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে তিনি উতরোতে পারেননি। এবং, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। এমতাবস্থায়, ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন তিনি। ট্রাইবুনালের রায় দিয়ে স্পষ্ট জানায়, মহতাব বৈধ ভোটার।
সুপ্রিম-নির্দেশ
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাইবুনাল-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে সওয়াল-জবাব চলে।
কমিশনের আইনজীবী: সাতটি জায়গায় (বাড়িতে) ট্রাইবুনাল হবে । জুডিশিয়াল অফিস-সহ সাতটি জায়গা বেছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তা জানানো হয়ছে। আজ প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। কাল থেকেই শুরু শুরু হবে ট্রাইবুনাল।
বিচারপতি: এটা কি একদিনের প্রশিক্ষণ? এই প্রশিক্ষণে ঠিক কী সুবিধা হবে?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: কেনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে (ট্রাইবুনালে উপস্থিত) প্রাক্তন বিচারপতিদের?
কমিশন: একটা অন্য ধরনের কাজ তাঁরা করতে চলেছেন। তাই সেই সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা হবে। যাতে কাজ কিছুটা সহজ হয়।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শুধু কলকাতা হাইকোর্টে নয়, জেলা বিচারকদের কাছেও তাঁদের দাবি জানাতে পারেন।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: ট্রাইবুনালে আবেদনকারী ভোটারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিচার করে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন যে তথ্য দিচ্ছে, তাকে যেন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া না-হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: মূল তালিকা বেরোনোর পর যাঁরা বিবেচনাধীন, তাঁদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সেখানে যাঁদের নাম নেই, বা থাকবে না, তাঁদের জন্য ট্রাইবুনালের ব্যবস্থা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার পরে পরেও ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ালো নির্বাচন কমিশন। কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার নির্বাচন কমিশনের দফতারে গুচ্ছগুচ্ছ ফর্ম-৬ নিয়ে আসছেন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। আমি নির্দিষ্ট করে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলছি না। কলকাতা হাইকোর্টের পাশে ওই বাড়ি অবস্থিত হওয়ায়, আমরা নিজে দেখেছি, একজন আইনজীবী হিসেবে। আমি ভিডিয়ো দেখাতে পারি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কেন একজন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ট্রাইবুনালে সেই ব্যক্তি গেলে যেন তাঁর কারণ জানাতে হবে। আমরা দেখছি, কোন তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। ভোট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার। যদি কোনো ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয় এবং তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন এবং পরে যদি একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ট্রাইবুনাল রায় দেয় তাঁর পক্ষে, তাহলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাই, মনে রাখবেন, যদি কেউ এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, চিরতরে তাঁর ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।