আরজি কর কাণ্ডে তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের প্রতি চরম ক...
আরজি কর কাণ্ডে তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, 'আর কতদিন এই মামলার বিচারাধীন থাকবে? কতদিন সবাই বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে?'
এদিন নির্যাতিতার পরিবারের তরফে আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে বলেন, গত দু’বছরে সিবিআই তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরিবারের দেওয়া ভিডিও রেকর্ডিংও তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তদন্ত চলছে মন্থর গতিতে। এই অবস্থায় আইনজীবীর দাবি, ঘটনার দিন রাতে মোট ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত বলেও মনে করছেন তিনি।
এরপরেই বিচারপতি সরকার সিবিআইকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে বলেন, তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টেই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়া এবং মৃতদেহ টেনে আনার উল্লেখ রয়েছে। আদালতের আগের নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'ঘটনার দিন রাত থেকে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল, তা নতুন করে খতিয়ে দেখুন। প্রয়োজন হলে নতুন করে তদন্ত করুন। এভাবে মামলা অনির্দিষ্টকাল বিচারাধীন রাখা যায় না।'
সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার রাতের খাবার খাওয়া জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায়ের বয়ান এখনও নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, তদন্তে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তকারী অফিসারের কোনও ত্রুটি থাকলে তাও পর্যালোচনা করা হবে।
আইনজীবী ত্রিবেদীর সওয়াল শুনে বিচারপতি সরকার প্রশ্ন তোলেন ঘটনার পর হাসপাতালের কাঠামো ভেঙে ফেলার বিষয়টি তদন্তে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা নিয়েও। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য করেন, 'তদন্ত এমন নয় যে জলপাইগুড়ি থেকে একটি পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী আরও দাবি করেন, ঘটনার আগে কী কী হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন। সেই সময় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিদের এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে এর জবাবে সিবিআই জানায়, তারা প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
এরপরেই আদালতের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, এটা ট্রায়াল কোর্ট নয়, বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় আগামী ২৮ অগাস্ট। ওই দিন সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছোল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।