সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির জীবন আরোগ্য আলট্রাসোনোগ্রাফি ও জেনেটিক ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। অভিযোগ, প্রয়োজনীয়...
সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির জীবন আরোগ্য আলট্রাসোনোগ্রাফি ও জেনেটিক ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম না মেনেই ওই কেন্দ্রের আলট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) মেশিন সেবাশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই মেশিন ব্যবহার করে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তদন্তকারীদের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি। সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর একের পর এক অভিযোগ সামনে আসে এই শিবিরকে ঘিরে। কোথাও রিসর্ট দখল করে শিবির চালানোর অভিযোগ, কোথাও ভুল চিকিৎসা, অঙ্গহানি, এমনকি ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মতো গুরুতর অভিযোগও ওঠে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভাতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, সেবাশ্রয়ের নামে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই আবহেই সম্প্রতি নোদাখালির জীবন আরোগ্য আলট্রাসোনোগ্রাফি ও জেনেটিক ক্লিনিকে পরিদর্শনে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বাধীন একটি দল। তারা আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার সংক্রান্ত নথি দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট মেশিনটি ইতিমধ্যেই পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার থানার মালখানায় রয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই মেশিনটিই সেবাশ্রয় শিবিরে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে নিয়ম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মিলতেই সংশ্লিষ্ট আলট্রাসোনোগ্রাফি কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। কেন্দ্রটিকে অবিলম্বে লাইসেন্স জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের আলট্রাসোনোগ্রাফি বা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো যাবে না। গোটা ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।