ভোটের আবহে পুলিস প্রশাসনে বদলি প্রক্রিয়া চলছেই। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ফের বড়সড় রদবদল রাজ্য পুলিসের শীর্ষস্তরে। এবার ১২ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসারকে বদলি করল নির্বাচন কমিশন। মণীশ জোশ...
ভোটের আবহে পুলিস প্রশাসনে বদলি প্রক্রিয়া চলছেই। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ফের বড়সড় রদবদল রাজ্য পুলিসের শীর্ষস্তরে। এবার ১২ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসারকে বদলি করল নির্বাচন কমিশন। মণীশ জোশী, রানা মুখোপাধ্যায়, চন্দন ঘোষ- সহ মোট ১২ জনের বদলির নির্দেশিকা জারি কমিশনের। আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন আরও বেশি শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ করার লক্ষ্যেই এই রদবদল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুলিস এবং বিভিন্ন কমিশনারেট ও জেলা পুলিসের গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক অফিসারকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিসের বিভিন্ন ডিভিশনে নতুন ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে, পাশাপাশি জয়েন্ট কমিশনার স্তরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী, সিআইডির ডিআইজি পদে থাকা সোমা দাস মিত্রকে কলকাতা পুলিসের জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম) করা হয়েছে। কর্মী বিভাগে ডিআইজি সুদীপ সরকার দায়িত্ব পাচ্ছেন জয়েন্ট কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) পদে। অন্যদিকে এসটিএফের ডিআইজি দেবাস্মিতা দাসকে আনা হয়েছে জয়েন্ট কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে।
কলকাতা পুলিসের দক্ষিণ, উত্তর ও পূর্ব ডিভিশনেও নতুন ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ হয়েছে। দক্ষিণ ডিভিশনে দায়িত্ব পাচ্ছেন ভি.এস.আর. আনন্দনাগ, উত্তর ডিভিশনে প্রদীপ কুমার যাদব এবং পূর্ব ডিভিশনে প্রশান্ত চৌধুরী। ভাঙড় ডিভিশন থেকে সৈকত ঘোষকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, বিধাননগর, চন্দননগর ও আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটেও একাধিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কয়েকজন অফিসারকে জেলায় এসডিপিও ও অতিরিক্ত পুলিস সুপার পদেও পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে সুন্দরবন পুলিস জেলাও রয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই রদবদল। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও মজবুত করতে অভিজ্ঞ অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহল এই বদলিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই নজর রাখছে, এই রদবদল কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ময়দানে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ রুটিন প্রক্রিয়া, নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ভোট যত এগোচ্ছে, ততই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে রাজ্যে—এই বদলির সিদ্ধান্ত সেই চিত্রই আরও স্পষ্ট করছে।