রাজা পাত্র: রাজ্যে পালাবদলের পরেই অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল। ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কোহিনুর মজুমদার থেকে ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী থেকে একাধিক ত...
রাজা পাত্র: রাজ্যে পালাবদলের পরেই অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল। ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কোহিনুর মজুমদার থেকে ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী থেকে একাধিক তৃণমূল নেতা। সবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে আইপ্যাক। উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিধানসভার টিকিট বিক্রিরও অভিযোগ। কার্যত মুসলপর্ব চলছে তৃণমূলের অন্দরে। রাজনৈতিক কারবারিরা তো আবার, তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুললেন। ভবিষ্যতে ঘাসফুল শিবিরের আদৌও অস্তিত্ব থাকে কি না সে নিয়েও সন্দিহান তাঁরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলীয় কোন্দলের ঘটনা উত্তর কলকাতা তৃণমূলের অন্দরে। তৃণমূলের উত্তর কলকাতার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেনজির সংঘাত। দলীয় কাউন্সিলরকে ‘কুত্তা’ বলে অপমান সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের। তিনিই আবার উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি।
কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল?
অভিযোগ, ভোটের ফলঘোষণার পর থেকে অনেক তৃণমূল নেতাই ঘরছাড়া। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের উত্তর কলকাতার ‘অফিসিয়াল’ হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদের নাম করে তাঁর উদ্দেশে লেখেন, আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। সেই জায়গায় আপনি তো নিজেই ঘরে ঢুকে আছেন। অনেক দিন ধরে পদ আঁকড়ে বসে আছেন। অনেক হয়েছে, এ বার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।
সুব্রতের এই মেসেজের পর হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপটিতে কার্যত রে রে করে তেড়ে আসেন সুদীপ-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরেরা। কেউ কেউ শশী পাঁজার ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুদীপ-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর সুনন্দা সরকার সুব্রতকে উদ্দেশ করে লেখেন, তোমার এমএলএ কী করছে? যার এত ক্ষমতা, সে নিজের দলের কর্মীদের থানায় বসিয়ে রাখত। এখন উনি কোথায়? সুব্রত এর উত্তরে বলেন, শশী পাঁজা আর এমএলএ নেই, কিন্তু সুদীপদা এখনও এমপি, প্রেসিডেন্ট উত্তর কলকাতার। কাউন্সিলরদের এই দলাদলির মধ্যে সুদীপ নিজে উত্তর দেন। সুনন্দার উদ্দেশে তিনি গ্রুপেই লেখেন, এদের একটাই উত্তর। হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আমি দিয়ে দেব।
এর পরেই সুব্রত পাল্টা লেখেন, দাদা, আমি দলের সৈনিক। ‘কুত্তা’ নই। আমরা দলের সৈনিক আর আপনি আমারই চেয়ারম্যান।
তবে সুদীপকে নিয়ে দলের কোন্দল নতুন নয়। আর আগেও সুদীপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছিল কুণাল ঘোষকে। বার্ধ্যকের ভারে মূহ্যমান হলেও পদ আটকে পড়ে রয়েছেন সুদীপ। ভোটে জনতার ঘাড়ধাক্কা খেয়েও নির্লজ্জের মত কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর বদলে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেখানে ব্যাপক সফলতা পেয়েও বারংবার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তৃণমূলের এই সংস্কৃতি যে বাঙালি অস্মিতার উপর অসম্মান তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।