"মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গে আবাও ভোট-পরবর্তী হিংসার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। মারের বদলা মার দিতে হবে। নইলে ভোট-পরবর্তী হিংসা রোখা যাবে না। আজকে যে পরিস্থিতি তৈরি হল, আরও অনেক ভাইকে হারাতাম আম...
"মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গে আবাও ভোট-পরবর্তী হিংসার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। মারের বদলা মার দিতে হবে। নইলে ভোট-পরবর্তী হিংসা রোখা যাবে না। আজকে যে পরিস্থিতি তৈরি হল, আরও অনেক ভাইকে হারাতাম আমরা। তাই এখন থেকেই মারের বদলা মার দিতে হবে। এখন থেকেই রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে ভোট-পরবর্তী হিংসা না-হয়", বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কার্যত এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন বিশ্বজিৎ সরকার। একুশের বিধানসভা ভোটে, গণনা পর্বে কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের উপর শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়। নৃশংসভাবে খুন করা হয় ওই বিজেপি কর্মীকে। পরে আদালতের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা পরেশ পালের উস্কানিতেই এই খুন বলে বিজেপি দাবি করে। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তেও উঠে আসে পরেশের নাম। যদিও, একটা পর্যায়ের পর আর কার্যত তদন্ত এগোয় না। সিবিআই-এর উপর কার্যত অনাস্থা প্রকাশ করেন নিহত অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার।
এদিন ঘটনার সূত্রপাত একটি ফ্লেক্সকে ঘিরে। সেই ফ্লেক্সে লেখা ছিল, 'বয়কট বিজেপি'। মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, "ওই ফ্লেক্স ওঁরা (বিজেপি কর্মীরা) ছিঁড়ে দেন। আমাদের প্রশ্নের মুখে ওঁরা স্বীকার করে নেন যে ফ্লেক্স ওঁরাই ছিড়েছে। আমাদের কর্মীরা তখনও শান্ত থেকে ওই ফ্লেক্স টাঙাতে থাকেন। এরপরই শুরু হয় ইটবৃষ্টি। বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে। পর-পর কাচ ভাঙতে থাকে। তৃণমূলের কর্মীরা প্রতিরোধ করলে মেরে তাঁদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। কাউকে হাসপাতালে, কাউকে নার্সিংহোমে পাঠিয়েছি। বিজেপির বাসে লাঠিসোটা, অস্ত্র, বোমা সবই মজুত ছিল। এরা সব বহিরাগত গুন্ডা। এরা নাকি বাংলা দখল করবে"!
এদিন বেলার দিকে বিজেপির ব্রিগেডমুখী বাস গিরীশ পার্ক এলাকার উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে শুরু হয় ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে সামান্য ফ্লেক্স ছেঁড়াকে ঘিরে বাদানুবাদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই, মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায় "যুদ্ধ পরিস্থিতি" তৈরি হয়। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেই 'যুদ্ধে'র মধ্যে পড়ে আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস ও গাড়ি। প্রশ্ন ওঠে, কোথা থেকে এত ইট এল? প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিসের ভূমিকাও। খাস কলকাতায়, মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চলল, পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠল, এলাকার অলিগলির দখল নিল রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা। তবু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন এত দেরি হল?