ভোটমুখী বঙ্গে বন্দেমাতরম নিয়ে আবারও জল্পনা। এবার কলকাতা হাইকোর্টে বন্দেমাতরম নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি ...
ভোটমুখী বঙ্গে বন্দেমাতরম নিয়ে আবারও জল্পনা। এবার কলকাতা হাইকোর্টে বন্দেমাতরম নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
আইনজীবী উপাংশু সুরের দাবি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ কেন্দ্রীয় সরকার বন্দেমাতরমের ৪ টি স্তবককে সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বন্দেমাতরাম যখন রচিত হয় তখন ৬টি স্তবকই ছিল। পরবর্তীকালে ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মা গান্ধীর পরামর্শে দেশের সাম্প্রদায়িক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার স্বার্থে সংযোজিত ৪ টি স্তবককে বাদ দেওয়া হয়। সেইসময় থেকেই এই প্রথায চলে আসছিল। ১৯৫০ সালে তা সরকারিভাবে বাস্তবায়িত হয়। মামলাকারীর প্রশ্ন কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির এই সংযোজিত স্তবকগুলির ফলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে না তো?
প্রসঙ্গত সব সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তিন মিনিট দশ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘বন্দেমাতরম’-এর ছয় স্তবকের অনুমোদিত সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রোটোকলের একরূপতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজ্যগুলির কাছে নির্দিষ্ট সংস্করণ ও সময়সীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠেয়েছে কেন্দ্র।নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মুহূর্তে—বিশেষ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় এবং রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে—‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশন করতে হবে।শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে এই ছয় স্তবকের সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এই নির্দেশ রাজ্যপালদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারি কর্মসূচিতে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে নির্ধারিত সংস্করণের ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে।কেন্দ্রের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে যাতে অভিন্ন প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন শুরুর পরপরই এই নির্দেশ জারি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক বছরব্যাপী উদ্যাপনের সূচনা করেন এবং জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।তবে কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তির পর দেশ জুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে ‘বন্দেমাতরম’প্রসঙ্গে
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।বিরোধীদের একাংশের মত, সাংবিধানিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের বিষয়গুলি নিয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, জাতীয় ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা ও প্রোটোকলের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।সব মিলিয়ে, ‘বন্দেমাতরম’ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত। এবার এর মাঝেই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়াতে ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে ফের জল্পনা উসকে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।