কিছুটা আশা ছিল , হয়তো কোনও দিন ফিরে আসবে ঘরের মানুষটা, ফোনের অন্য প্রান্তে বেজে উঠবে প্রিয় মানুষের কন্ঠ, কিন্তু তেমনটা হল কই, পোন বাজল ঠিকই, তবে ফোনটা এল পুলিসের কাছ থেকে। নজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে ডিএনএ ম...
কিছুটা আশা ছিল , হয়তো কোনও দিন ফিরে আসবে ঘরের মানুষটা, ফোনের অন্য প্রান্তে বেজে উঠবে প্রিয় মানুষের কন্ঠ, কিন্তু তেমনটা হল কই, পোন বাজল ঠিকই, তবে ফোনটা এল পুলিসের কাছ থেকে।
নজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের পর ১৮ জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। পুলিস জানালো পরিবারের রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিলে গিয়েছে। ফলে এই ১৮ জনের পরিবারের আশার আলো নিমষেই নিভে গেল।
জানা গেছে এই আঠারো জনের বেশিরভাগই মেদিনীপুরের বাসিন্দা ।DNA ম্যাপিং এর পর ১৮ জনের দেহ সনাক্ত করে সেই রিপোর্ট এসছে নরেন্দ্রপুর থানায়।পুলিস জানিয়েছে অতি দ্রুত দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে নরেন্দ্রপুর থানায়। পরিবারের লোকজন এসে পৌঁছেছেন নরেন্দ্রপুর থানায়।নথিগত কাজকর্ম শেষে কাঁটাপুকুর থেকে দেহাংশ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে বলেই পুলিস সূত্রের খবর।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, পাঁশকুড়া, ময়না, নন্দকুমার, সুতাহাটা ও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ২১টি পরিবারের সদস্যদের নমুনা নেওয়া হয়েছিল ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। জানা গিয়েছে, ১৮ জনের ডিএনএ মিলে গিয়েছে। এদিকে,পুলিস জানিয়েছে বাকি ৯ জনের ডিএনএ ম্যাচিং–এর কাজ চলছে। ফলে এই ৯টি পরিবার এখনও অধীর অপেক্ষায়.....
আর যাদের প্রতিক্ষার অবসান হল, প্রায় একমাস রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর, তারা শনিবার সকাল থেকেই থানার বাইরে অপেক্ষারত । কেমন যেন সবাইকার কান্না জমা পাথর হয়ে গেছে, ভোর ভোর বাড়ি থেকে বেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন, প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাওয়ার আশায়।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাশাপাশি থাকা দু’টি গুদাম, একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার এবং অন্যটি একটি ডেকোরেটরস কোম্পানির। আগুন নেভানোর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৭ জনের দেহাংশ। এতটাই ভয়াবহ ছিল আগুনের তীব্রতা যে, অধিকাংশ দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দেহাংশগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ভিত্তিতেই ইতিমধ্যে ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আজ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই দেহাবশেষ।