সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্র রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। এবার সোজা স্বাস্থ্য ভবন থেকে কলকাতার সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে নজরদারি চালাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার নবান্ন যাওয়ার পথেই ...
সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্র রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। এবার সোজা স্বাস্থ্য ভবন থেকে কলকাতার সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে নজরদারি চালাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার নবান্ন যাওয়ার পথেই একবার স্বাস্থ্য ভবনে ঢুঁ মেরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে নতুন কন্ট্রোল রুমে বসে কিছুক্ষন মনিটরিং করেন তিনি। সেই সঙ্গেই বলেন, 'কোনও দালালকে আজ হাসপাতালে দেখা গেলে কাল আর তাঁকে দেখা যাবে না।'
জেলা হাসপাতাল হোক বা কলকাতার নাম করা মেডিক্যাল কলেজ। দালাল চক্রের ফাঁদ ছড়ানো সর্বত্র। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা খোয়াতে হয় সাধারণ গরিব রোগীর পরিবারকে। এমনকি বেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় অসুস্থ রোগীকে। বিশেষ করে তৃণমূল জমানায় হাসপাতালে দালাল চক্রের বাড়বাড়ন্ত ছিল চোখে পড়ার মত। যা নিয়ে একাধিকবার পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগীর পরিবার। আঙুল উঠছে স্বাস্থ্য দফতর ও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এমতাবস্থায় নজরদারি আরও কড়া করতে উদ্যোত হয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার।
সেই সূত্রেই স্বস্থ্য ভবনে তৈরি করা হয়েছে নতুন লাইভ মনিটরিং বিভাগ। যেখানে ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালাবেন নির্দিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা। কোনও বেচাল নজরে এলেই সরাসরি পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, এদিন নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকা স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে হাসপাতালগুলিতে লাইভ মনিটরিং করা হবে। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মহকুমা হাসপাতালগুলিতেও শুরু হবে নজরদারি। তিনি আরও জানান, রোগী বা রোগীর পরিবার ঘন ঘন হাসপাতালে আসবে না। তাই দালালদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, আপাতত কন্ট্রোল রুমে ২৪টি মনিটরিং স্ক্রিন বসানো হয়েছে। কলকাতার সমস্ত মেডিকেল কলেজগুলিতে চলছে নজরদার। কন্ট্রোলরুমে প্রত্যেকদিন ৬ জন করে আধিকারিক থাকবেন। আগামী ৩০ জুলাই থেকে এই নজরদারির আওতায় আনা হবে রাজ্যের মহকুমা হাসপাতাল গুলোকেও।