মেয়র হিসাবে দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ বাজেট পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩.৭২ কোটি টাকা ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হল কলকাতা পুর সভা। প্রসঙ্গত গত অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ বাজেটে ঘাটতি ছিল ১১৪.৭২ কোট...
মেয়র হিসাবে দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ বাজেট পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩.৭২ কোটি টাকা ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হল কলকাতা পুর সভা। প্রসঙ্গত গত অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ বাজেটে ঘাটতি ছিল ১১৪.৭২ কোটি টাকা। শুক্রবার পরম্পরাগত ভাবে ঘাটতি বাজেটই পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কলকাতা পুর সভার বাজেটের ঘাটতি গিয়ে দাড়াল ১১১ কোটি টাকা।
এই বাজেট নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষে এই বাজেটকে হামটি ডাম্পটি বাজেট বলে কটাক্ষ করেন। বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেবের অভিযোগ নির্বাচনী মুখী বাজেট। বাজেট ভাষণ সম্পূর্ণ না পড়ে পরম্পরা ভেঙে বাজেট পেশ করেছেন মেয়র বলে অভিযোগ তুলেছেন বাম ও বিজেপির কাউন্সিলররা।
কোন কোন খাতে আয়ব্যায়ের হিসেব দিলেন মেয়র?
এবারের বাজেটে জল সরবরাহ ও পয়:প্রণালী , সড়ক উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, বসতি পরিষেবা, বাণিজ্যিক প্রকল্প, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এবং সাধারণ খাতে আয় ও ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বর্তমান অর্থবর্ষে মোট আয় হল ৫,৭৯১.৪৩ কোটি টাকা। যেখনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯০২.৪৩ কোটি টাকা।
পুর সভার জন্য রাজ্য সরকারি অনুদান কতটা বাড়ল?
এই অর্থবর্ষে কলকাতা পুর সভার জন্য রাজ্য সরকারি অনুদান বেড়ে হল ৩,১৩০ কোটি টাকা । বিগত অর্থবর্ষে সরকারি অনুদান ছিল ২,৮৯৭ কোটি টাকা ।
মোট রাজস্ব আদায় কত?
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২,৬৬১.৪৩ কোটি টাকা । ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ছিল ১,৬৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজেটে বৃদ্ধি পেল ৯৯০.৪৩ কোটি টাকা। এদিন বাজেটের উপলব্ধি গুণতে গিয়ে মেয়র জানান যে ৯৫ কোটি টাকা খরচ করে কালীঘাট স্কাই ওয়াক করা হয়েছে।কলকাতা পুরসভার নতুন বিল্ডিং এর জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেছে।এছাড়া উল্লেখযোগ্য ভাবে লক্ষী ভাণ্ডার শহরে নতুন করে ১ লক্ষ ২৭ হাজার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ফলে বর্তমানে কলকাতার১৪৪ টি ওয়ার্ডে মোট লক্ষী ভাণ্ডারের উপভুক্তাদের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার বলে জানালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।এছাড়া এদিন ই-পরিষেবার উপরে জোর দেওয়ার কথা বলে মেয়র বলেন যে মানুষকে কলকাতা পুরসভায় যাতে না আসতে হয়। তার জন্য ই - পরিষেবার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শহরের নাগরিকের কাছে সবুজ পরিষেবা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ পুরসভা বলে জানালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে কেবলমাত্র ভাষার বিচার করে যেন কারোর উপরে অত্যাচার না হয় , বিরোধীদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করার পরই মেয়রের মন্তব্যের পাল্টা নিশানা করেন বিজেপির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ। মেয়রের বাংলা ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে বর্ণ পরিচয় গিফট করার কথা বলেন সজল ঘোষ। ফলে বিরোধীদের অভিযোগকে কেন্দ্রে করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন ছিল উত্তপ্ত। বাজেট অধিবেশন আগামী ১৬ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন ব্যাপী চলবে।