১৫ ফেব্রুয়ারি পেই মে চাইনিজ স্কুলে চিনা সম্প্রদায়ের নববর্ষ উদযাপন। কিন্তু উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে ক্লাসরুম খালি করা নিয়ে আইনি জট এখনও অব্যাহত। শুক্রবার হাইকোর্টে রাজ্য সরকার জানায় বিদ্যালয়ের মোট ১৮ ...
১৫ ফেব্রুয়ারি পেই মে চাইনিজ স্কুলে চিনা সম্প্রদায়ের নববর্ষ উদযাপন। কিন্তু উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে ক্লাসরুম খালি করা নিয়ে আইনি জট এখনও অব্যাহত। শুক্রবার হাইকোর্টে রাজ্য সরকার জানায় বিদ্যালয়ের মোট ১৮ টি শ্রেণীকক্ষের মধ্যে ৮ টি সাময়িকভাবে খালি করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও পর্যন্ত ওই কক্ষগুলি তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।
রাজ্যের আইনজীবী অমল সেন আদালতে জানান
"১৫ ফেব্রুয়ারি চিনা সম্প্রদায়ের নববর্ষ উৎযাপন। তাই পেই মে চাইনিজ স্কুলের ৮ টি ক্লাসরুম খালি করে দেওয়া হয়েছে। মোট ১৮ টি ক্লাসরুম আছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে ক্লাস রুম খালি করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র উৎসবের জন্য সাময়িক খালি করা হচ্ছে। কারণ গত ডিসেম্বর মাসে রাজ্য আদালতের কাছে ৬ মাস সময় চেয়েছে। এখন বাকি ১০ টা ঘরে বাকি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এডজাস্ট করে রাখা হচ্ছে।"
বিদ্যালয় পক্ষের আইনজীবী সপ্তাংশ বাসু জানান
ক্লাসরুমগুলি এখনও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়নি।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন
বেলা ২ টায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে তাঁদের ক্লাসরুমগুলো হস্তান্তর করা হল কি না।পাশাপাশি রাজ্যকে জানাতে হবে ওই বিদ্যালয়ে কতজন কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। তাঁদের জন্য কত ক্লাস রুমের প্রয়োজন।
কেন স্কুলে সিআইএসএফ?
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকের ধর্ষণ, খুনের পর শহরের নিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০০ জন অতিরিক্ত সিআইএসএফ জওয়ানদের দুমাসের জন্য রাখার আর্জি জানান হয় স্কুলের কাছে। সেই থেকে জওয়ানরা রয়ে গিয়েছেন ট্যাংরার চিনেপাড়ার একমাত্র স্কুল পেই মে ক্যাম্পাসে।আগে থেকেই এখানে পড়াশোনা থমকে গিয়েছিল। এবার দীর্ঘদিন ধরে সিআইএসএফ জওয়ানদের জন্য স্কুলের পড়াশোনাও চালু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলাটি ওঠে। সিআইএসএফ রাখার জন্য ৪২ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা খরচ করে রাজ্য। ডিসেম্বর মাসে রাজ্য জানায় ছমাস সময় দিলে রাজ্য সিআইএসএফ নিরাপত্তা রক্ষীদের অন্যত্র সরিয়ে নেবে।পেই মে চাইনিজ স্কুলে সিআইএসএফ-এর অস্থায়ী ক্যাম্পের জেরে দু’বছর চিনা নববর্ষ উদযাপন করতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ ফলে এবছর তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে চিনা নববর্ষ পালন করার জন্য। এখন দেখার পেই মে চাইনিজ স্কুল খালি করার জন্য হাইকোর্টের পর্যবেক্ষমে কি উঠে আসে।