অকারণেই দুশ্চিন্তা হচ্ছে মনে। হঠাৎ হাসি পাচ্ছে আবার কান্নায় ভাঙছে মন! রাগ বা সন্দেহবাতিক হলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ভিতরের শয়তান। যে কোনও পরিস্থিতিতেই অতিরিক্ত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় ভুগছে এখনকার প্রজন্ম। বর্...
অকারণেই দুশ্চিন্তা হচ্ছে মনে। হঠাৎ হাসি পাচ্ছে আবার কান্নায় ভাঙছে মন! রাগ বা সন্দেহবাতিক হলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ভিতরের শয়তান। যে কোনও পরিস্থিতিতেই অতিরিক্ত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় ভুগছে এখনকার প্রজন্ম। বর্তমানে এভাবেই মারণরোগে ভুগছেন ছেলে-মেয়েরা। সিজোফ্রেনিয়া আর মানসিক অবসাদ এক জিনিস না হলেও খানিকটা মিল রয়েছে। এই রোগে আপনি আক্রান্ত কিনা, কী করবেন বুঝতে পারছেন না? কী বলছেন চিকিৎসকের একাংশ জেনে নিন।
জানা গিয়েছে, সিজোফ্রেনিয়া এমন একটি মানসিক রোগ, যা অনেকেই অবহেলা করে এড়িয়ে চলেন। কিন্তু চিকিৎসা না হলে এই রোগ বিপজ্জনক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি হত্যা বা আত্মহত্যার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে এটি। অন্যকে হত্যা করারও ঝুঁকি থাকে। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা থাকে। এ ছাড়া পড়ালেখা, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত কাজ অর্থাৎ সব কাজে তার মনোযোগ ও সক্ষমতা কমে যায়। সিজোফ্রেনিয়া এমনই একটি গুরুতর মানসিক রোগ। এ রোগে রোগী নিজে বুঝতে পারেন না বা কখনও স্বীকার করেন না তাঁর কোনও মানসিক রোগ আছে।
সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণঃ
যদিও সিজোফ্রেনিয়া কেন হয় তার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে সাধারণত বংশে কারও সিজোফ্রেনিয়া থাকলে পরে আরেকজনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও নানাবিধ কারণে সিজোফ্রেনিয়া হয়ে থাকে। শৈশবে কোনও অস্বাভাবিকতা থাকলে হতে পারে, শৈশবে কেউ যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকে, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ কিংবা পরিবেশে বড় হয় সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে তার মধ্যে।
কী করে বুঝবেন সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত আপনি?
কখনও কোনও ব্যক্তি বিনা কারণে চিন্তা করছেন। অস্বাভাবিকতা আচরণ করছে। তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন, কানে অদ্ভুদ আওয়াজ শুনছেন, একা একা কথা বলছেন, এলোমেলো কাজ করছেন, উল্টোপাল্টা কথা বলছেন এবং নিজের যত্ন নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাহলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তির মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গ রয়েছে।
সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের চিকিৎসা
রোগী কখনো স্বীকার করবেন না তার মানসিক সমস্যার কথা। পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি খেয়াল করতে হবে যত্নের সঙ্গে। তাই রোগীর ইচ্ছায় হোক বা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই হোক, তাকে যেকোনওভাবে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যেতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। উপসর্গ দেখে এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা-নীরিক্ষার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগ শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হবে রোগীকে।