বাংলায় পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাত থেকে কার্যত হাত-ছাড়া হয়ে গেছে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিজের হাতে আঁকা ঘাসফুল প্রতীক হাইজ্যাকড হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। এ...
বাংলায় পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাত থেকে কার্যত হাত-ছাড়া হয়ে গেছে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিজের হাতে আঁকা ঘাসফুল প্রতীক হাইজ্যাকড হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। এমতাবস্থায়, সংসদে আসন্ন বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় ইস্তফা দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। এমনকি, সদ্য রাজ্যসভায় আসা নায়িকা-সাংসদ কোয়েল মল্লিক পর্যন্ত বিদ্রোহীদের দলে যোগ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি যে এমন ঘোরালো হয়ে উঠবে, তা আঁচ করতে পেরে ইতিমধ্যেই দিল্লি রওনা হয়েছেন তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর একইসঙ্গে শাসক ও বিরোধীর তকমা হারানো তৃণমূল কংগ্রেসের এখন নিশানা করেছে ২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করতে চেয়ে শরিকদের আহ্বান করেছেন। ইন্ডিয়া জােট এদিন বৈঠকেও বসেছে। কিন্তু, এরই মধ্যে দিল্লিতে ঘাসফুল শিবির থেকে বিপর্যয়ের খবর আসতে শুরু করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্তত ২১ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। আর তা একেবারে এদিনই!
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গোপন বৈঠক সেরেছেন তৃণমূলের অন্তত ২১ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের, সুখেন্দু শেখর, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও বেশ কয়েকজন। আর এই বৈঠকের পরেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। যেখানে উপস্থিত রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ত্রিপুরার বিপ্লব দেব-সহ একাধিক নেতা। পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলে।