পঞ্চায়েতে ঘুগুর বাসা ভাঙতে প্রথম থেকেই তৎপর হয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সরকারি তহবিল থেকে খরচ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে চলে গিয়েছে। এদিন পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পেশ কর...
পঞ্চায়েতে ঘুগুর বাসা ভাঙতে প্রথম থেকেই তৎপর হয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সরকারি তহবিল থেকে খরচ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে চলে গিয়েছে। এদিন পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পেশ করা হয় বিধানসভায় ও তার পাশ হয় বিপুল ভোটে।
রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, “অংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত চলছে না, তৃণমূলের বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত চলছে রাজ্যে। কাটমানি বন্ধ হবে এবার”।
দিলীপ ঘোষ ইতিমধ্যেই জেলা সফরে বেরিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে কাজ করছে-না-করছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন। সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের অনেকেই গয়ংগচ্ছ মনোভাব নিয়ে চলেন বলে লক্ষ করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পঞ্চায়েত প্রধানের লড়াইয়ে দলের হয়ে টিকিট পেতে কম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়নি তৃণমূল জমানায়। কে টিকিট পাবে আর কে পাবেন না, তা নিয়ে গুলিগােলা থেকে খুনোখুনি, সবই হয়েছে তৎকালীন শাসকদলের অন্দরে। কারণ একটাই, একবার পঞ্চায়েত প্রধান হতে পারলে লুটেপুটে নিয়ে সারাজীবন বসে খাওয়ার রসদ জুটে যায়। যে কারণে, তহবিলের টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে সচিব পর্যায়ের কোনও আমলা বা এক্সিকিউটিভকে দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
একদিকে পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের লুঠ বন্ধ করা। অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজের গতি আনা, এই দুই লক্ষ্যে কাজ করছে নতুন সরকারের পঞ্চায়েত দফতর। এমতাবস্থায়, পঞ্চায়েত আইনের সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য হল, লুঠের সময়ে লুঠ আর বাকি সময় বাড়ি বসে কাটিয়ে দেওয়া আর চলবে না। পঞ্চায়েতের কোনও প্রধান বা উপপ্রধান ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলেই সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্বভার যাবে প্রশাসকের হাতে। উদ্দেশ্য একটাই, পঞ্চায়েত বাস্তুঘুগুর বাসা ভেঙে দেওয়া।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নির্বাচন এগিয়ে এলেও পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে বাকি আরও দু-বছর। এমতাবস্থায়, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে দুর্নীতি রুখতে এই পদক্ষেপ খুবই জরুরি। এবং, একই সঙ্গে জরুরি কাজের গতি বাড়ানো। একাধিক সরকারি প্রকল্পের টাকা কিন্তু এই পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই গ্রামে গিয়ে পৌঁছয়।
এই পরিস্থিতিতে, পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পেশ ও পাশ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।