রুদ্রাক্ষ এমনিই একটা জিনিস, তাকে ভাল না বেসে পারা যায় না। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ ধারণ করতে পারে রুদ্রাক্ষ, এমন কি যে কোনো সম্প্রদায়ের সাধু সন্ন্যাসীও।রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে যে লজ...
রুদ্রাক্ষ এমনিই একটা জিনিস, তাকে ভাল না বেসে পারা যায় না। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ ধারণ করতে পারে রুদ্রাক্ষ, এমন কি যে কোনো সম্প্রদায়ের সাধু সন্ন্যাসীও।রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে যে লজ্জা পায় তার মুক্তি হয় না। এরফলে বহুবার তাকে জন্ম নিতে হয় সংসারে। তবে কোনো ব্যাক্তির রুদ্রাক্ষ ধারণ করা অবস্থায় যদি মৃত্যু হয় তাহলে তার পূর্ণজনম হয় না।
কোন তিথিতে রুদ্রাক্ষ ধারন করে ফললাভ হয়? যেমন অক্ষয় তৃতীয়া, গুরুপূর্ণিমা, দোলপূর্নিমা, 'জন্মাষ্টমী, দশহরা, রামনবমী, দুর্গাপুজো, অমাবস্যা, চন্দ্রগ্রহণ সূর্যগ্রহণ চলাকালীন রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে দ্রুত ফললাভ হয়। তেমনি শ্রেষ্ঠত্ত্বের বিচারে রুদ্রাক্ষ শ্রেষ্ঠ। উদাহরণস্বরূপ- নদীর মধ্যে গঙ্গা যেমন শ্রেষ্ঠ, গ্রহদের মধ্যে সূর্য, মুনিদের মধ্যে কাশ্যপ, দেবীদের মধ্যে দুর্গা যেমন শ্রেষ্ঠ তেমনি সমস্ত মালার মধ্যে শ্রেষ্ঠ রুদ্রাক্ষ। রুদ্রাক্ষ ধারণ করা ব্যক্তির অন্ন, অর্থ, বস্ত্রের কষ্ট হয় না কখনো।
কোন রুদ্রাক্ষ পরলে কি ফল পাওয়া যায়? একমুখী রুদ্রাক্ষ কেউ যদি ধারন করে, সে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে। এটি দুর্লভ রুদ্রাক্ষ। তবে চ্যাপটা একমুখী রুদ্রাক্ষ কখনই রুদ্রাক্ষ নয়ং ওটি হলো ভদ্রাক্ষ। দুটো মুখ আছে এমন রুদ্রাক্ষ কেউ ধারন করলে তার প্রতি দেবদেবী সুপ্রসন্ন হন। তিনমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে ব্রহ্মা ভীষন প্রীত হন। এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অগ্নিভয় থাকে না। চারমুখী রুদ্রাক্ষের ধারণকারীর লক্ষ্মীলাভ হয়। মন অতি পবিত্র ও নির্মল হয়। পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে স্বয়ং মহাদেব সন্তষ্ট হয়ে তার সঙ্গে বিরাজ করেন।
ছয়মুখী রুদ্রাক্ষে মহাদেব তথা গণেশজি অবস্থান করেন ধারণকারীর সঙ্গে। সাতমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে ভগবৎজ্ঞান লাভ হয় ও মন পবিত্র হয়। আটমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে স্বয়ং গঙ্গাদেবী-সন্তুষ্ট হন। গঙ্গাস্নান না করলে গঙ্গাস্নানের ফল পাওয়া যায়। নয়মুখী রুদ্রাক্ষে স্বয়ং ধর্মরাজ যম সঙ্গী থাকেন ধারণকারীর। অধর্মের কোনো কাজে লিপ্ত হতে দেন না তাকে। দশমুখী রুদ্রাক্ষের ধারণকারী দশদিকের বাধাকে বিপদমুক্ত করে তাকে জয়লাভ করতে সাহায্য করেন সমস্ত দেবদেবীরা। ভূত প্রেত পিশাচের হাত থেকে রক্ষা করেন তাকে। (পরবর্তী পর্ব লক্ষ্য রাখুন)।