অসীম সেনঃ বিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল সেগান অনেকদিন আগেই বলে গিয়েছেন, 'মহুশূন্য হল অনুসন্ধানের জন্য'। কিসের অনুসন্ধান তা বোধগম্য না হওয়ায় বাম হাতে জোট হল না। অতীতে একাধিকবার রাজ্যে কুস্তি আর দিল্লি...
অসীম সেনঃ বিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল সেগান অনেকদিন আগেই বলে গিয়েছেন, 'মহুশূন্য হল অনুসন্ধানের জন্য'। কিসের অনুসন্ধান তা বোধগম্য না হওয়ায় বাম হাতে জোট হল না। অতীতে একাধিকবার রাজ্যে কুস্তি আর দিল্লিতে দোস্তি কথাটা শোনা গিয়েছিল বাম-কংগ্রেসের অম্লমধুর সম্পর্ক ঘিরে। সে সময়ে রাজ্যে কংগ্রেস কিংবা কেন্দ্রে বামেরা কখনওই অপ্রাসঙ্গিক হয়নি। এরপরই হাওয়া মোরগের দিক বদলের নিশানায় পালটে গেল অনেক সমীকরণ। কেন্দ্রে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে শতাব্দী প্রাচীন দল আর রাজ্যে অস্তিত্ব সংকট বামেদের। এ অবস্থাতেও জোট হয়েছিল। ২০২১ এ বাম-কংগ্রেস জোট একটা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছিল। নীচু তলার কর্মী সমর্থকদের গ্রাহ্য না করেই জোট হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল বিধিবাম। প্রথমবারের মত বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস কোনও খাতা খুলতে পারেনি। আইএসএফ টিমটিম প্রদীপের মত জ্বলেছিল ভাঙর থেকে। অন্যদিকে বামেরা শূন্যের গভীরতা বুঝিয়ে চলেছে বিভিন্ন সভামঞ্চে। সিপিআইএম এর ভোট দাঁড়ায় ৪.৭৩ শতাংশে আর কংগ্রেস দাঁড়ায় ২.৯৩ এ।
একনায়কেরা এখানে গণতন্ত্রের স্তব করে। অতীতের কথা ভোলেনি বাংলার কংগ্রেস। ভোলেনি সাঁইবাড়ি হত্যার কথা, ভোলেনি কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অপরাধে হাওড়ার আমতায় হাঁসুয়া দিয়ে পাঁচ কংগ্রেস কর্মীর হাতের পাঞ্জা কেটে নেওয়ার কথা। যদিও প্রমাণ হয়নি কিছুই। সাঁইবাড়ি পরিণত হয়েছে গল্পকথায়, আমতার ঘটনা থেকে গেছে অভিযোগের দস্তাবেজে। কিন্তু বাংলার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা সেদিনের কথা ভুলতে পেরেছে কি? তারপরেও লোকসভায় জোট হয়েছিল। দিল্লি কংগ্রেস শোনার প্রয়োজন মনে করেনি বাংলা কংগ্রেসের আঁতের কথা। ফল মিলেছে হাতেনাতে। গত লোকসভা নির্বাচনের পর অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে আনা হয়েছিল শুভঙ্কর সরকারকে। নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বর্তমান রাজনৈতিক আবহে পশ্চিমবঙ্গে একলা চলো নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বারবার।
২০২৬ এর কংগ্রেস-বাম জোটের সম্ভাবনার দড়ি টানাটানির মধ্যে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার । ছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর। মীর জোট রাজনীতির পাকা খেলোয়ার। জম্মু-কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে জোটের মূল কারিগর ছিলেন তিনিই। ঝাড়খণ্ডেও হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সঙ্গে জোট গড়ে দ্বিতীয়বার বিজেপিকে পরাস্ত করতে সফল হয়েছেন তিনি। দিল্লির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০২৬ এ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধবে না কংগ্রেস।
মুর্শিদাবাদ, মালদহের মত কংগ্রেসর শক্ত ঘাঁটিতে এই মুহূর্তে তৃণমূলের মুসলিম ভোটে ভাগ বসাবে হুমায়ুন সহ কয়েকটি সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দল। সে অবস্থায় সুবিধায় থাকবে কংগ্রেস। তাছাড়া বাংলার পশ্চিম প্রান্তে ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হচ্ছে কংগ্রেস। এই সুবিধা নিতে চাইছে শতাব্দী প্রাচীন দল। স্বাভাবিক ভাবেই এ মুহূর্তে বামেদের সঙ্গে জোট লাভদায়ক নয়। মহাশূণ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া বামেরা এখন বোঝার বাইরে আর কিছু নয়, এমনটা আভাস মিলেছিল মীরের গলাতেও। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে খুশি রাজ্যের কংগ্রেস নেতা-কর্মীরাও। নির্বাচনের ফল কী হবে তা বলার সময় এখনও আসেনি। কিন্তু বামেদের সঙ্গে জোটহীন লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত, রাজ্য কংগ্রেসের নীচু তলার কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষরণ কমাবে। এ রাজনৈতিক আবহে সেটুকুই বা কম কী?