কোন পথে আলিপুরদুয়ার
ছবির মত সাজানো আলিপুর দুয়ার। শান্তির তপোবন। কিন্তু ওই যে, জঙ্গল দূর থেকেই ঘণ দেখা যায়। ভোট আসতে না আসতেই জেলার একাধিক ইস্যু প্রকট হয়ে উঠছে। আমরা বাংলা তুমি কার অনুষ্ঠানে আলোচনা করব আলিপুর দুয়ার জেলা নিয়ে। তার আগে চিনে নেওয়া যাক জেলাটিকে।
জেলার সীমানা
ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত আলিপুর দুয়ার স্বতন্ত্র জেলার সম্মান পেয়েছে ২০১৪ সালের ২৫ জুন। জেলার উত্তরে ভুটান, পূর্বে অসম রাজ্য, পশ্চিমে জলপাইগুড়ি এবং দক্ষিণে কোচবিহার। আলিপুর জেলার মোট আয়তন ২৮৪১ বর্গ কিলোমিটার। জেলাটি কালজানি নদীর তীরে অবস্থিত। বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মত ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি নদী, চা বাগান সব মিলিয়ে গোটা জেলা ট্রাভেল মানচিত্রে প্রথম সারিতে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছে। মোট পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে এই জেলায়। আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, কালচিনি, কুমারগ্রাম এবং মাদারিহাট।
পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে পাল্লা ভারি কোন দিকে? ভোট ইতিহাস যদি একটু বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে
ভোট ইতিহাস, ভোটফল
কুমার গ্রাম
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুলের পতাকা উড়িয়েছিলেন জেমস কুজুর। ২০২১ সালে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায় এই কেন্দ্রে বিজেপি পকাতা ওড়ান মনোজ ওরাঁও।
কালচিনি
উইলসন চম্প্রামারি এখানকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। ২০১৬ সালের বিধানসভায় তিনি কালচিনি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের পতাকায় জয়ী হন। ২০২১ সালে এখানেও ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটে। জনতা বেছে নেন বিজেপির বিশাল লামাকে।
আলিপুরদুয়ার
আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় ২০১৬ সালে জেতেন তৃণমূলের সৌরভ চক্রবর্তী। ২০১৯ সালে এই বিধানসভাটিও হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। জেতেন বিজেপির সুমন কাঞ্চিলাল
ফালাকাটা
ফালাকাটা বিধানসভাটি ২০১৬ সালে জেতেন তৃণমূলের অনিল অধিকারী। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জেতেন বিজেপির দীপক বর্মণ
মাদারিহাট
২০১৬ সালে গোটা বাংলা থেকে মাত্র তিনটি বিধানসভা আসনে জিতেছিল বিজেপি। তার একটি মাদারিহাট। জিতেছিলেন বিজেপির মনোজ টিগ্গা। ২০২১ সালেও জিতেছিলেন বিজেপির মনোজ টিগ্গা। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মনোজ টিগ্গা নির্বাচিত হলে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। জেতেন তৃণমূলের জয়প্রকাশ টপ্পো।
আলিপুর দুয়ার লোকসভায় ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে উড়েছিল গেরুয়া পতাকা ২০১৯ সালে এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন জন বার্লা। ২০২৪ সালে এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির মনোজ টিগ্গা।
মোটের ওপর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলিপুরদুয়ার বিজেপির শক্ত ঘাটি। এই আবহে ২০২৬ বিধানসভার ডঙ্কা বেজেছে।
জেলায় একাধিক সমস্যা রয়েছে। কিছুটা ভৌগলিক, কিছুটা অর্থনৈতিক, কিছুটা রাজনৈতিক। ক্ষোভ আছে মানুষের মধ্যে। আবার একটা অংশ প্রশাসনের কাজে সন্তুষ্ট। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন ইস্যুর ওপর দাঁড়িয়ে ভোট হবে এই জেলায়
এবারের ভোট ইস্যু
জেলার পৌরসভাগুলির তীব্র আর্থিক সংকট এখানকার বড় সমস্যা যার ফলে ব্যহত হচ্ছে পৌর পরিষেবা। রাস্তায় যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা শহরবাসীর অন্যতম সমস্যা । পৌরসভায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বকেয়া পড়ে আছে ৪ কোটি টাকার বেশি। এ সবের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক অবহেলা। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জবরদখল এবং তীব্র পার্কিং সমস্যা রয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসক বসেন না। জেলার একাধিক সেতু জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা সংস্কারের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে চা বাগান সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। তোর্সা নদীতে ভুটানের পাসাখা শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পড়ার কারণে জল দূষণের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও চা শ্রমিক পরিবারগুলির আয় ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের আগে দেওয়া পরিকাঠামোগত প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তব কাজের আকাশপাতাল ফারাক দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ভুয়ো ভোটার নিয়ে বিতর্ক চলছে।
কাজ কিছু হয়েছে, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আলিপুরদুয়ারে এখন লড়াই মূলত দ্বিমুখী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার মানুষ কাদের ওপর ভরসা রাখবে তা অবশ্য সময় বলবে।