অসীম সেন: শ্বাস বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। আমার গানই হল আমার শ্বাস। নব্বই বছর বয়সে তিন ঘণ্টা লাইভ কনসার্ট করেছিলেন। গোটা জীবনে প্রায় ১২০০০ এর ওপরে গান গেয়েছিলেন। গেয়েছিলেন প্রায় ২০ টি ভাষায় গান। গান থেম...
অসীম সেন: শ্বাস বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। আমার গানই হল আমার শ্বাস। নব্বই বছর বয়সে তিন ঘণ্টা লাইভ কনসার্ট করেছিলেন। গোটা জীবনে প্রায় ১২০০০ এর ওপরে গান গেয়েছিলেন। গেয়েছিলেন প্রায় ২০ টি ভাষায় গান। গান থেমে গেল। লতা, আশা, মীনা, ঊষা চারবোন আর এক ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর। দিদি লতা সুরের সরস্বতী। আর আশা? তাঁর গলার ভার্সেটাইলিটির প্রেমে পড়েছিল আসমুদ্র হিমাচল, প্রেমে পড়েছিলেন রাহুল দেব বর্মণ স্বয়ং।
১৯৪৮ সালে চুনারিয়া সিনেমার 'সাওয়ান আয়া' গান দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এর আগে মারাঠি ভাষায় একাধিক গান গেয়েছিলেন তিনি। কখনও উচ্ছ্বল প্রেম তাঁর গলায় ছলকে উঠেছিল। বলিউড নেচেছিল 'চুরালিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো' র সুরে। আবার বোহেমিয়ান ইউথের সুরে সুর মিলেছিল 'দম মারো দম'। গভীর প্রেম যেখানে ভাষা হারায় সেই ঝিলের অতলে সুরের ঢেউ, 'ইন আঁখোকো কি মস্তি'।
হাজার হাজার হিট গান। দু দুটি জাতীয় পুরস্কার। ওপি নায়ার, এসডি বর্মন, আর ডি বর্মন, শঙ্কর-জয়কিশন, লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, মদন মোহন, নওশাদ, খৈয়াম, এ আর রহমান, ইলাইয়ারাজা, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, বাপি লাহিড়ী আট দশক ধরে একাধিক সুরকার গীতিকারের সঙ্গে কাজ করেছেন আশা। বুকে হাজার ক্ষত। বয়স যখন মাত্র ১৬ , কুড়ি বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিয়ে করেন। প্রেম করেই বিয়ে কিন্তু বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি। দিদি লতা সম্পর্ক ত্যাগ করেন, গাইয়ে বউকে মানেনি শ্বশুড় বাড়ি। স্বামীও সঙ্গ দেননি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ঘর ছেড়ে ফিরে আসেন ভাই বোনদের কাছে। তবুও কোনও ক্ষোভ নেই। আজীবন গণপতরাওয়ের সারনেম সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন।
বিয়ে করেছিলেন রাহুল দেব বর্মনকে। সালটা ১৯৮০। আশার বয়স তখন ৪৭ । রাহুল দেব বর্মন ৭ বছরের ছোট। জীবন চলার পথ দুজনের ভিন্ন। এক ছাদের তলায় থাকতে পারেননি। তবে দুজনের প্রতি দুজনের সম্মান অটুট ছিল আজীবন। আশা ভোঁসলের গোটা জীবন ছিল উচ্ছ্বল নদীর মত। আপাতত নদী সাগর খুঁজে পেল। তারাদের দেশে যোগ দিল আরএক তারা। দীর্ঘ জীবন, তবুও কেন যেন আশার কথা উঠলে বুকে বাজে 'দো লফজো কি হ্যায় দিল কি কাহানি'। মৃত্যুর সাম্পানে আজ ভেসে গেল খাম্বাজ ঠাটের, রাগ কলাবতীর সুর।