অসীম সেন: প্রথমেই বলে রাখি আপনার সঙ্গে আজ যা ঘটেছে তা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আমরা সমর্থন করতে পারি না। কিন্তু জনতার যে কোনও মুখ হয় না। তাই এ ঘটনার জন্য দায়ী করতে পারলাম না কাউকেই। যে মাথায় এত...
অসীম সেন: প্রথমেই বলে রাখি আপনার সঙ্গে আজ যা ঘটেছে তা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আমরা সমর্থন করতে পারি না। কিন্তু জনতার যে কোনও মুখ হয় না। তাই এ ঘটনার জন্য দায়ী করতে পারলাম না কাউকেই। যে মাথায় এতদিন গোলাপের পাঁপড়ি ঝড়ে পড়ত, সেই আপনার মাথা দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে ভাঙা ডিম। বোতাম খোলা জামার ফাঁক দিয়ে সোনার চেনটা বিপর্যস্ত। একদিন এই গ্রাম এই রাস্তা দিয়ে আপনি যখন হেঁটে গিয়েছিলেন,আপনার দুপাশে হাজার হাজার মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মত আপনাকে দেখেছে। আপনি নায়ক লুক দিয়েছেন। বোঝেননি দিন বদলাতে সময় লাগে না।
আপনার দলের তৃণ স্তরের নেতারাও নিজেদের সর্বশক্তিমান ভাবতে শুরু করেছিল। তাদের ইচ্ছেয় হাওয়া বইত। ত্রাণের ত্রিপল, চাল চুরির অভিযোগ জমা পড়ছিল ভুরি ভুরি। ডায়মন্ড হারবার জুড়ে গড়ে উঠেছিল বারুদের কারখানা। আরজিকরের নির্যাতিতার মায়ের কান্না কিনতে চেয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ টাকায়। শহরের রাজপথে গ্রীষ্মের দুপুরে পড়ে থাকা চাকরি প্রার্থীদের নিয়েও রাজনীতি খেলেছিলেন আপনি। ন্যাহ্য দাবি নিয়ে নবান্নে গিয়েও সুরাহার বদলে অবিচার জুটেছিল। মানুষ কেঁদেছিল, মাথা ঠুকেছিল এ দোর ও দোরে। কোনওকিছুতেই কিছু হয়নি। হিরের দ্যুতিতে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল আম জনতার।
চার তারিখের পরে আপনি ডিজে বাজাতে চেয়েছিলেন। যেমনটা চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর কথা বলেছিল আপনার দলের কৃতী সন্তান, সবকিছুর চুড়ান্ত রূপটা বড্ড নগ্ন হয়ে যায়। আপনার ক্ষমতার আস্ফালনও উলঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। জনরোষ যে কী ভয়ানক হতে পারে তা মর্মে মর্মে বুঝেছেন আপনি। যেমনটা বুঝেছিলেন বেনিতো মুসোলিনি, যেমনটা বুঝেছিলেন মোহাম্মদ নজিবুল্লাহ। শনিবাসরীয় দ্বিপ্রহরে সোনারপুর যে এভাবে লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠবে, তা বোধহয় আঁচ করতে পারেননি ঘুনাক্ষরেও। ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত দলের এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুর গিয়েছিলেন। গ্রামে ঢোকার পর ঘটল চরম ঘটনা।
প্রথম পর্যায়ে কালো পতাকা হাতে গো ব্যাক স্লোগান, তারপর ক্ষোভ দাবানলের আকার নেয়। ভিড় ঝাপিয়ে পড়ে সুনামির মত। আপনার ঠুনকো সম্ভ্রম লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। পচা ডিম , কাদা জল, কিল ঘুষি জুতো কিছুই বাদ ছিল না। হেলমেট পড়িয়ে নিয়ে যেতে হল আপনাকে। আসলে জবাব চাইছে মানুষ। জবাব চাইছে এতদিনের জমে থাকা হাজার প্রশ্নের। মানুষের ১৫ টা বছরের সুখ শান্তি কেড়ে নিয়েছেন আপনি সুপরিকল্পিত ভাবে। এখন মুখ লুকিয়ে থাকলে চলবে কেন?