ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে গাড়ি করে সোনারপুর পৌঁছান তিনি। এরপর কামালগাছি থেকে তাঁকে কা...
ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে গাড়ি করে সোনারপুর পৌঁছান তিনি। এরপর কামালগাছি থেকে তাঁকে কালো পতাকা দেখতে শুরু করেন উত্তপ্ত জনতা। সেখানে থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা। পরে বাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে জনরোষের মুখে পড়তে হয় সাংসদকে। ইট,জুতো, ডিম ছোড়া হয় অভিষেককে। শেষে ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়েও রক্ষা মেলেনা। রীতিমত এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় তাঁকে।
শনিবার অভিষেকের কর্মসূচি ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের বাড়িতে যাওয়া। এদিন সকালে কলকাতার বেলেঘাটা দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর বিকেলে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর। মাঝখানে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিআইডি-র নোটিস নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোনারপুরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ঢোকার মুখেই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। ওঠে 'গো ব্যাক' স্লোগান। এর কিছু সময়ের মধ্যেই হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় পরিস্থিতি।
বাইক ছেড়ে পায়ে হেঁটে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করেন অভিষেক। তাঁকে ঘিরে এগোতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। এর মধ্যেই চলতে থাকে মার-কিল-ঘুষি। বেশ কয়েকবার সরাসরি আঘাত লাগে সাংসদের গায়ে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছোন অভিষেক। সেখানে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায় অভিষেককে। সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, 'মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি হয়তো একই ভাবে বেরিয়ে গেলাম। তার পর তো সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওই বখাটেগুলো।' তিনি আরও বলেন, 'ওরা আমায় মারতে চায়। আমি এখান থেকে যাব না। আমার মৃত দেহ এখান থেকে উদ্ধার হোক। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি যাব না।'