অসীম সেন : একটা সময়ে বাংলার মানুষ ভেবেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কালে বাংলার দায়িত্ব ভার সামলাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার চলা বলা সব মিলিয়ে একটা থালাইভা ভাবমূর্তি। একে চমকাচ্ছেন ওকে ধমকাচ্ছ...
অসীম সেন : একটা সময়ে বাংলার মানুষ ভেবেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কালে বাংলার দায়িত্ব ভার সামলাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার চলা বলা সব মিলিয়ে একটা থালাইভা ভাবমূর্তি। একে চমকাচ্ছেন ওকে ধমকাচ্ছেন। দিল্লির বাবাদের ডিজের হুমকি দিচ্ছেন। সময় চলিয়া যায়, নদীর স্রোতের প্রায়, যে জন না বুঝে, তারে ধিক্ শত ধিক। কী দারুণ ভবিষ্যৎ বাণী, কবিতার পংক্তিতে । অভিষেক ডিম খাইয়া প্রমাণ করিলেন,সময় বদলাইয়াছে। যেই না পাশা ওল্টালো, অমনি শাক চাপা মাছ গুলি বেরিয়ে আসতে লাগল।
আর্থিক দুর্নীতি, সই জালিয়াতি একাধিক অভিযোগ, একাধিক মামলা। তদন্ত সংস্থাগুলি ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছে অভিষেকের ঘরে অফিসে। সাধারণ মানুষ ভারতীয় দণ্ডবিধি সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই সম্যক জ্ঞান রাখেনন না। অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা গুলির একটু বিশ্লেষণ করা হল। আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪২০ বা প্রতারণা এবং ৪০৬ বা বিশ্বাসভঙ্গের ধারা লাগু হতে পারে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হওয়ার পরে নতুন আইনি ধারাগুলিও প্রযোজ্য হয়। বিএনএস অনুসারে প্রতারণার ক্ষেত্রে ৩১৮ ধারা লাগু হবে। এই ধারায় প্রতারণার মাধ্যমে কারও থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষেত্রে বিএনএস এর ধারা ৩১৬। নথিপত্র জাল করার মত অভিযোগে পুরানো আইপিসি এর ধারা ৪৬৮ এবং ৪৭১। নতুন বিএনএস এর ধারা ৩৩৬। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জন্য আইপিসির ধারা ১২০ বি এবং নতুন বিএনএস এর ধারা ৬১। পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার ও আর্থিক তছরুপের মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি , ৪০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ১৩(২) সহ ১৩(১)(ক) ধারায় সিবিআই প্রথম এফআইআর দায়ের করেছিল।
এখনও এই সবই কেবলমাত্র অভিযোগ। আপাতত তদন্ত চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে জনসমক্ষে একাধিকবার বলেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে গলায় দড়ি দেবেন। বালাই ষাট ওসব কথা মুখেও আনতে নেই। তবে অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৭ থেক ১০ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে থাকবে পাড়া। হঠাৎ শুনিবে পুলিশের কড়া নাড়া। অভিষেক বাড়ি আছো?