শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ শক্তিপীঠ, বাউল গান, কোপাই ময়ূরাক্ষী সব মিলিয়ে বীরভূম। ভোট যুদ্ধে প্রায় সকলেরই নজর থাকে বীরভূমের ওপর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্বর পাশাপাশি বীরভূম পরিচিত মায়ের গলায় শত শত ভরি সোনার গয়নায় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জেলার রাজনৈতিক ছবিটি আমরা বোঝার চেষ্টা করব। তবে তার আগে জেনে নেব জেলার সীমানা
জেলার সীমানা
রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন এই জেলাকে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারাপীঠের শক্তিপীঠ ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে পরম আস্থার জায়গা। এই তারাপীঠই সাধক বামাখ্যাপার লীলাক্ষেত্র। এখানেই নানুরে অজয়ের তীর থেকে চলে দেদার বালি চুরি। এখানেই বগটুইয়ে জ্বলে যায় গোটা গ্রাম। বীরভূম একটি ত্রিভূজাকৃতি জেলা। এর পশ্চিমে ঝাড়খন্ড পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে মুর্শিদাবাদ। দক্ষিণে অজয় নদ বর্ধমান থেকে জেলাকে আলাদা করেছে। উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে ঝাড়গ্রামের সাঁওতাল পরগনা। জেলায় মোট ১১ টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। দুবরাজপুর, সিউড়ি, বোলপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট, হাসন, নলহাটি, মুরারই।
ভোট ইতিহাস, ভোট ফল
বীরভূমের অলিখিত বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর ইশারাতেই নাকি জেলায় ভোট হয়। মাঝে কিছুদিন অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও, বর্তমানে তিনি আবার স্বমহিমায় বীরভূমে। এই জেলা তৃণমূলের শক্ত ঘাটি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গত দুটি বিধানসভায় এই জেলার সমীকরণ
দুবরাজপুর
দুবরাজপুর কেন্দ্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের নরেশচন্দ্র বাউড়ি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পান বিজেপির অনুপকুমার সাহা।
সিউরি
সিউড়ি কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের অশোককুমার চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের বিকাশ রায়চৌধুরী
বোলপুর
বোলপুর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হন তৃণমূলের চন্দ্রনাথ সিনহা
নানুর
নানুর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হন সিপিআইএম এর শ্যামলী প্রধান। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের বিধান মাঝি
লাভপুর
২০১৬ সালে লাভপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের মনিরুল ইসলাম। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের অভিজিৎ সিংহ
সাঁইথিয়া
সাঁইথিয়া কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের নীলাবতী সাহা
ময়ূরেশ্বর
এই কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের অভিজিৎ রায়
রামপুরহাট
রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
হাসন
হাসন কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের মিল্টন রশিদ। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান তৃণমূলের অশোককুমার চট্টোপাধ্যায়
নলহাটি
নলহাটি কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের মইনুদ্দিন শামস্ এবং ২০২১ সালে জেতেন তৃণমূলের রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং
মুরারই
মুরারই কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জেতেন তৃণমূলের আব্দুর রহমান এবং ২০২১ সালে জেতেন তৃণমূলের মোশারফ হোসেন।
২০১৬ র বিধানসভা নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এগারোটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আটটি কেন্দ্র জিতেছিল তৃণমূল। ২০২১ সালের নির্বাচনে দেখা যায় দুটি আসন বাড়িয়েছে তৃণমূল।
লোকসভার হিসেব
বীরভূম জেলায় মোট দুটি লোকসভা কেন্দ্র। বীরভূম এবং বোলপুর। দেখে নেওয়া যাক শেষ দুটি লোকসভা নির্বাচনে কোনদিকে ভোট হাওয়া বয়েছিল?
বীরভূম
২০১৯ এবং ২০২৪ সালে বীরভূম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের শতাব্দী রায়।
বোলপুর
বোলপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের অসিতকুমার মাল।
এবারের ভোট ইস্যু
এককথায় বীরভূমকে তৃণমূলের দুর্গ কম বললে খুব একটা বেশি বলা হবে না। প্রায় সবকটা বিধানসভা ক্ষেত্রে ঘাসফুলের প্রভাব স্পষ্ট। কিন্তু তাবলে শাসকদলের বিরুদ্ধে যে একেবারেই অভিযোগ নেই, বিষয়টা এমনও নয়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন ইস্যুর ওপর দাঁড়িয়ে এবার ভোট হবে বীরভূমে।
বীরভূমে বিরোধীদের বড় অস্ত্র শাসকদলের অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের দ্বন্দ্ব। এসআইআর এর ফলে বীরভূমের বহু ভোটারের নাম প্রশ্ন চিহ্নের মুখে যা ভোটের আগে একটি বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যু। তৃণমূল কংগ্রেস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী এবং প্রবীণদের জন্য পেনশনের মতো সামাজিক প্রকল্পগুলোকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লাভপুরে নির্বাচনী জনসভা করে বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামানোর ডাক দিয়েছেন।বীরভূমের শিবপুরে শিল্প স্থাপনের পরিবর্তে জমি ফেরতের দাবি তুলেছেন চাষিরা, যা ভোট-আবহে শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বারবার দুর্নীতির অভিযোগ বারবার উঠেছে এই জেলার শাসকদলের মুখ অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।বালি খাদান নিয়ে অবৈধ কারবার এবং বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে, যা এবারের ভোটে বড় ইস্যু।
শাসকদলের দাবি এগারটা বিধানসভাতেই উড়বে ঘাসফুল। বিরোধীদের দাবি, এবার বদলাবে হাওয়া। কী হতে চলেছে ভোটফল তা সময় বলবে। আপনারা দেখতে থাকুন বাংলা তুমি কার। চোখ রাখুন সিএন ডিজিটালে