বামেদের ৩৪ বছরে ঋণ হয়েছিল ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। একটা প্রশ্ন উঠল পাপী মনে, কীভাবে সেই ঋণ টুকু অন্তত শোধ করা যায়? তখন সেফিয়া টোনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ব্রাহ্মণ সন্তান। মাথায় করে ইঁট বইতে হত। ২০১...
বামেদের ৩৪ বছরে ঋণ হয়েছিল ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। একটা প্রশ্ন উঠল পাপী মনে, কীভাবে সেই ঋণ টুকু অন্তত শোধ করা যায়? তখন সেফিয়া টোনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ব্রাহ্মণ সন্তান। মাথায় করে ইঁট বইতে হত। ২০১৩ সালে তৃণমূলে যোগ দেবার পরই আরশোলা থেকে প্রজাপতি হয়ে ডানা মেলেন। আবাস যোজনা, চাকরি দুর্নীতি, জমি জবরদখল, কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতি পাটখেতের মাটি খুঁড়ে ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুধু দীপঙ্কর ভট্টাচার্য কেন? এরকম হাজার হাজার উদাহরণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অন্তত পরিস্থিতি তেমনই বলছে। একটি হিসেব দেওয়া যাক। ৪ জুন নতুন করে পালাবদলের আগে পর্যন্ত তৃণমূলের মোটামুটি ভাবে ২৯ জন এমপি, ২১৩ জন এমএলএ, প্রায় ২৫০০ জন কাউন্সিলর, এবং ৪২ হাজার পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। বড়, মেজো, সেজো, ছোট মিলিয়ে ৪৫ হাজার জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও সরকারি স্বয়ংসেবকের সংখ্যাও তো এখানেই শেষ নয়। রয়েছেন এমএলএর আস্থা ভাজন, এমপির প্রিয় প্রোমোটার। ঘাসফুলি আরচিহ্ন ওয়ালা সরকারি আইপিএস, আইএএস, উচ্চ পদস্থ অফিসার। সব মিলিয়ে সেই সংখ্যাও প্রায় ৫০ হাজার । তা এঁরা প্রত্যেকেই নিশ্চই চোর-ডাকাত নন।
এবার একটা মজার অঙ্ক দেখা যাক। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নেতা, মন্ত্রী, সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯৭ হাজার। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মত একজন চুনোপুটির কোষাগার থেকে মিলল সাত রাজার ধন। এছাড়াও স্ক্যানারে রয়েছেন প্রদীপ কর, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস, দিলীপ মণ্ডল, অনুব্রত মণ্ডল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত হাজার হাজার নাম। রুজিরাও নাকি বিদেশ যেতে চাইছেন। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কাছ থেকে মিলেছে চার কোটি টাকা। পার্থ বান্ধবীর খাটের তলা থেকে মিলেছে ৫০ কোটি টাকা। ধরে নেওয়া গেল। সকলে চোর নন, কিংবা সকলে সমান হারে চুরি করেননি। কিছু মানুষ তৃণমূলের খেপলা জালের থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন,
তাহলে হিসেব কী দাঁড়াল? মোট সম্ভাব্য সন্দেহযোগ্য সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার। আর বামেদের ঋণ ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি। যদি সবকিছু যোগ, বিয়োগ,গুণ, ভাগ করে এক একজনের খাতে যদি মাত্র ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। তাহলে বামেদের ঋণ শোধ হয়ে যাবে। সুতরাং আর দেরি কেন? পাকাল মাছ ধরতে কাদা জলে নামা যাক। পাট খেত, ধান খেত, উলুখাগরা, পুঁইশাকের মাচা থেকে উদ্ধার হোক কোটি কোটি টাকা, উদ্ধার পাক বাংলা।