অসীম সেন: বড্ড জোর প্রাণে বাঁচলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গলার নলি কাটার ব্যবস্থা প্রায় কনফার্ম হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। আপাতত চিড়িয়াখানায় সাতশ কিলো বপু নিয়ে ছোলা-ভুষি খাচ্ছে মনের আনন্দে। ইদে...
অসীম সেন: বড্ড জোর প্রাণে বাঁচলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গলার নলি কাটার ব্যবস্থা প্রায় কনফার্ম হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। আপাতত চিড়িয়াখানায় সাতশ কিলো বপু নিয়ে ছোলা-ভুষি খাচ্ছে মনের আনন্দে। ইদের জন্য একটি গোলাপি বিরল অ্যালবিনো মহিষ কিনেছিলেন বাংলাদেশের মনিরুজ্জামান। হঠাৎই লক্ষ করা গেল। মাথার বড় বড় লোম গুলি যত্ন করে আঁচড়ে দিলে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মত দেখতে লাগছে। হাঁকডাকেও রীতিমত মার্কিন প্রেসিডেন্ট সদৃশ। কে ব্যাটা ফস করে আপলোড করে দিল সমাজ মাধ্যমের দেওয়ালে। ব্যাস আর যায় কোথায়। মুহূর্তে ভাইরাল। এমন ভাইরাল যে অরিজিনাল ট্রাম্প সাহেবও রিয়্যাকশন না দিয়ে পারলেন না।
এমনিতেই বারবার মুখ পুড়ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। উপসাগরীয় অঞ্চলে ওমানের সঙ্গে আমেরিকার রীতিমত জয়-বীরু সম্পর্ক। অন্তত তেমনটাই জানতেন ট্রাম্প। সেই ওমান কিনা হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে খাজনা আদায়ের কথা ভাবছে! একি মানা যায়? এরপরেও ওমানকে যে বোম মেরে উড়িয়ে না দিয়ে শুধু হুঙ্কার দিয়েছেন সেটাই ওমানে ভাগ্য। হুঙ্কারে কম যায়না মনিরুজ্জামানের অ্যালবিনো ট্রাম্পও। গোবর বা গোচনা ত্যাগের আগে ওর হুঙ্কার শোনার মত। যে কোনও পরিস্থিতিতে অহেতুক দাদাগিরি মানা যায় না। ইরান আমেরিকার অতি আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে। যে আমেরিকা এতদিন চিনের সঙ্গে বিধবা ননদের মত চেচিয়েছিল, সেই আমেরিকা কিনা এখন চিনের সঙ্গে বৈঠক করছে। যে রাশিয়াকে ভেঙে দুমরে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল দীর্ঘদিন ধরে। এখন সেই তেজ ও আর নেই। ভারতের সঙ্গেও এখন খুনসুঁটি ভাব।
অহেতুক যখন তখন হুঙ্কার মনিরুজ্জামানের পছন্দ ছিল না মোটে। পাড়ার পশুর ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে কৃমির ওষুধ খাইয়েছিল। আপাতত সমঝে চলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা দুনিয়া কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। বিশ্বের সর্বশক্তিমান মানুষটার মেয়ে ইভাঙ্কা পর্যন্ত এখন আর সুরক্ষিত নয়। ট্রাম্পের হুঙ্কার বজায় থাকলেও হৃদয় আকাশের ইশান কোণে ভয়ের মেঘ জমেছে। যার কেউ নেই, যাকে নিয়ে সকলে বিরক্ত, সর্বশক্তিমান তাকেও একটা চান্স দেন। তার খোদা, ভগবান, জেসাস আছে। কুরবানির কয়েক ঘন্টা আগে পুলিশের হস্তক্ষেপে মনিরুজ্জামানের ট্রাম্পকে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। আপাতত সে ঢাকার চিড়িয়া খানায় রয়েছে। আনার সময় যদিও পায়ে সামান্য চোট পেয়েছে। যদিও মনিরুজ্জামান জানে না ট্রাম্পের কোন দুটি হাত আর কোন দুটি পা।
সম্প্রতি এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান থেকে নামার সময়ে ট্রাম্পের একটি ছবি তোলা হয়েছিল, সেখানেক ট্রাম্পকে অসুস্থ মনে হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে কালসিটে দাগও দেখা গিয়েছে যার ফলে বেজায় চিন্তিত বিশ্ববাসী। চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে ট্রাম্পের ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি রয়েছে যার ফলে পায়ের শিরাগুলি হৃৎপিন্ডে সঠিকভাবে রক্ত ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। সাধারণত শিরার ভেতরের ভালভ বা কপাটিকা দুর্বল হয়ে পড়লে রক্ত নিচের দিকে জমা হতে শুরু করে। বাংলাদেশে ট্রাম্প, অর্থাৎ অ্যালবিনো জাতের মহিষরা অত্যন্ত বিরল গোত্রের। সুতরাং আপাতত যত্নেই আছে ট্রাম্প।