পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দরের ঐতিহ্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সমুদ্রসৈকত এবং লোকসংস্কৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। rnপ্রাচীন ঐতিহ্য এই জেলাকে রাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দিয়েছে। এই জেলা বিরোধ...
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দরের ঐতিহ্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সমুদ্রসৈকত এবং লোকসংস্কৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। rnপ্রাচীন ঐতিহ্য এই জেলাকে রাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দিয়েছে। এই জেলা বিরোধী দল নেতার চারণ ভূমি। এই জেলা এককালে ঘাসফুলের দূর্গ হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমরা জানব তবে তার আগে জানব জেলার সীমানাrnrnজেলার সীমানা rnrnপূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো তমলুক এবং কাঁথি—এই দুটি লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে বিভক্ত। জেলায় অবস্থিত হলদিয়া শিল্পাঞ্চল। দিঘা, মান্দারমনি, তাজপুর, শঙ্করপুরের ভগ্ন সমুদ্র নজর কাড়ে পর্যটনপ্রেমি মানুষদের। এর ওপর বাড়তি পাওনা দিঘার জগন্নাথ মন্দির। সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় মৎস্য বন্দর জেলার অন্যতম আর্থিক ভিত্তি। এ জেলাতেই জন্মেছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরার মত ব্যক্তিত্বরা। যারা এককালে ভারতকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। জেলার উত্তরে পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়া পূর্বে হুগলি নদী ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিমে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ওড়িশা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।rnrnপূর্ব মেদিনীপুরে বর্তমানে বিজেপির ফসল কাটার সময়। এই জেলা থেকেই গত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কাছে হেরেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই জেলার কিছু হ্যাপেনিং বিধানসভার গত দুই টার্মের ফল।rnrnতমলুকrn২০১৬ সালে তমলুক বিধানসভা থেকে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম এর প্রার্থী অশোক কুমার দিন্দা। অশোক দিন্দা দীর্ঘদিন ধরে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সৌমেন মহাপাত্র।rnrnপাঁশকুড়া পূর্বrnপাঁশকুড়া কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী শেখ ইব্রাহিম আলি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে পালাবদল ঘটে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের বিপ্লব রায়চৌধুরী।rnrnপাঁশকুড়া পশ্চিমrnপাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের শহিদ জননী ফিরোজা বিবি। ফিরোজা বিবির ছেলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় খুন হন। rnrnমহিষাদলrnমহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিলক কুমার চক্রবর্তীrnrnহলদিয়া rn২০১৬ সালে হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম এর তাপসী মণ্ডল। এরপরে তিনি ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে লড়েন এবং জয়ী হন।rnrnনন্দীগ্রামrn২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই কেন্দ্রের দিকে নজর থাকে গোটা ভারতের। ফল প্রকাশে দেখা যায়। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়ে জয়ী হন নন্দীগ্রামের ভূমিপূত্র শুভেন্দু অধিকারীrnrnকাঁথি উত্তরrnএই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বনশ্রী মাইতি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে পালাবদল ঘটে। জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী সুমিতা সিংহ।rnrnকাঁথি দক্ষিণ rn২০১৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দিব্যেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির অরূপকুমার দাসrnrnখেঁজুরিrnখেঁজুরি কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রণজিৎ মণ্ডল। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শান্তনু প্রামাণিক।rnrnরামনগরrnরামনগর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ ও ২০২১ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অখিল গিরিrnrnএগরা rnএগরা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হন তৃণমূলের সমরেশ দাস। ২০২০ সালে অতিমারী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হলে ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের তরুণকুমার মাইতি।rnrnজেলার রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র অনেকটাই নির্ভর করে অধিকারী পরিবারের ওপর। বিধানসভায় বাম আধিপত্য হটিয়ে এখানে উড়েছিল ঘাসফুলের পতাকা। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিলে বদলেছে সিনারিও। গত দুই টার্মের লোকসভা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।
লোকসভার হিসেবrnrnপূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট দুটি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে তমলুক ও কাঁথি। ২০১৯ সালে তমলুক কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দিব্যেন্দু অধিকারী। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের শিশির অধিকারী। এই কেন্দ্রেও পালাবদল ঘটে। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির সৌমেন্দু অধিকারী।rnrn
ভোটের ইস্যু
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে গোটা বাংলার। এই জেলা ঠিক করবে বিরোধী শক্তি কতটা প্রবল হচ্ছে অথবা বিরোধীরা কতটা শক্তি হারাচ্ছে কিনা। আপাতত জেনে নেওয়া যাক কোন কোন ইস্যুতে ভোট হতে চলেছে এবারrnrn২০২৬ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কাঁথি ও নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভোটার তালিকার শুদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। এই জেলা শুভেন্দুর গড়। এখানে বিজেপির প্রভাব বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ উদ্ধারের লড়াই প্রবল। শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুর থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্তের প্রভাব পূর্ব মেদিনীপুরের কর্মীদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছে, যা জেলার স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ভগবানপুর সহ বেশ কিছু আসনে বিজেপি ও অন্যান্য দলের অন্দরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে ।সাম্প্রতিক কিছু সমবায় নির্বাচনে তৃণমূল ও বামেদের একজোট হয়ে লড়াই করার খবর সামনে এসেছে, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, নদীর পাড় ভাঙন, অপরিকল্পিত খাল খনন, অবৈধ বাজি কারখানা, এবং নদী ও নিকাশি নালা অবরুদ্ধ হয়ে বন্যা। শিল্পাঞ্চলে এবং শহরের এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ একটি সমস্যা। এছাড়া, গ্রামীণ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি একটি বড় ইস্যু।rnrnযত ভোট সামনে আসছে, বাড়ছে পূর্বমেদিনীপুরের ভোট উত্তাপ। কোন দিকে জল গড়ায় তা জানার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। আপাতত অন্যান্য জেলার সমীকরণ জানতে দেখতে থাকুন বাংলা তুমি কার। দেখতে থাকুন সিএন ডিজিটাল।