অসীম সেন: বাউল বাতাসের পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। জয় প্রত্যাশিত ছিল। ব্যবধান কত হতে পারে তা নিয়ে উৎসাহ ছিল হয়তো। ফলতা ফলদায়ক হল দেবাংশু পান্ডার জন্য। জিতলেন এক লক্ষ ন হাজারের বেশি ভোটে। ২৪ এ হিরের দ্যুত...
অসীম সেন: বাউল বাতাসের পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। জয় প্রত্যাশিত ছিল। ব্যবধান কত হতে পারে তা নিয়ে উৎসাহ ছিল হয়তো। ফলতা ফলদায়ক হল দেবাংশু পান্ডার জন্য। জিতলেন এক লক্ষ ন হাজারের বেশি ভোটে। ২৪ এ হিরের দ্যুতিকে মডেল বানিয়ে ফলতা যুবরাজকে উপহার দিয়েছিল এক লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটের লিড। এবারেও যদি প্রশ্ন না উঠত যদি ভোট হত নির্দিষ্ট দিনে, তাহলেও ভোট ফল হয়তো অন্য হত। হয়তো জাহাঙ্গির বলার সুযোগ পেত গোটা দলের মাজা ভাঙলেও পুষ্পা আল্টিমেটলি ঝোঁকেনি। এবার সেই ফলতাতেই ঘাসফুল, পদ্মের থেকে এক লক্ষ ৪২ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ল।
যদিও তৃণমূল আলোচনাতেই আসার কথা নয়। কারণ লাস্ট বেঞ্চারকে নিয়ে কবেই বা আলোচনা হয়েছে? ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে বামেরা তারপর কংগ্রেস। গেল ভোটে ৮৯ শতাংশ ফলতার ভোট ছিল ঘাসফুলের ঝুলিতে। এবার নেমেছে চার শতাংশে। জামানত বাজেয়াপ্ত। বিজেপির ঝুলিতে গেল ৭১ শতাংশ ভোট। গত ভোটে এক শতাংশে নেমে যাওয়া সিপিএমের ভোট এবার উঠে এসেছে ১৯ শতাংশে। তার মানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ভোট রিগিং এর অভিযোগ ছিল তা সত্য! বামেরা মহাশূণ্য থেকে এবার একটি আসন পেয়েছে, আহামরি কিছু নয়। কিন্তু একটা প্রশ্ন তো রয়েই গেল।
হার্মাদ বলে যাদের দাগিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল, সেই হার্মাদের দল যখন মধ্যগগণে, তখনও বিরোধী মুছে যায়নি। বামেরা যেবার ২৩৫, সেবারও জাতীয় কংগ্রেস পেয়েছিল ২০ টারও বেশি আসন। অথচ বিগত দেড় দশকে বামেদের ব্রিগেডে উপচে পড়া ভিড় হলেও ভোট বাক্সে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। আসলে বিরোধী শক্তি শূণ্য হয় না। তাদের শূণ্য করতে হয়। আর তাই হয়েছে বামেদের সঙ্গে। যেই না তৃণমূলের পেশী শক্তিতে ঘুণ ধরল। ফলতায় তাদের বহু যোজন পিছনে ফেলে দিল বামেরা।
যদিও সীমাহীন ছাপ্পার অভিযোগ উঠেছিল বামেদের বিরুদ্ধে আরামবাগেও। এই কেন্দ্র থেকে অনিল বসু লোকসভায় জিতেছিল প্রায় ৬ লক্ষ ভোটে। সে সময়ে এটি একটি সর্বভারতীয় রেকর্ড । কিন্তু ফলতা আর আরামবাগের মধ্যে পার্থক্য হল, আরামবাগে বামেরা খাতায় কলমে সমর্থন ধরে রেখেছিল বেশ কয়েকটি ভোটে। এক্ষেত্রে ২০২৪ সালে বাঘ যখন ২০২৬ এ বিড়ালে পরিণত হয়ে গেল কীভাবে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। রাজনীতির ময়দানের প্রাচীন প্রবাদ, জনগনের মারে আওয়াজ হয় না। ফলতাতেও তাই হয়েছে। মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ রায়ে ভেঙে গেল যুবরাজের দুর্ভেদ্য দুর্গ। যুবরাজ এখন বুলডোজারে হাত থেকে নিজের মাথার ওপরে ছাদ বাঁচাতে ব্যস্ত।