এক স্বামী বাধ্য হয়ে মনোবিদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। উস্কো খুস্কো চুল। চোখ জবা ফুলের মত লাল।জানালেন তাঁর স্ত্রী সবসময় ঝগড়া করেন। মনোবিদ জানালেন যদি ঝগড়ায় বুঝতে পারেন ভূলটা নিজের তাহলে সঙ্গে সঙ্গ...
এক স্বামী বাধ্য হয়ে মনোবিদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। উস্কো খুস্কো চুল। চোখ জবা ফুলের মত লাল।জানালেন তাঁর স্ত্রী সবসময় ঝগড়া করেন। মনোবিদ জানালেন যদি ঝগড়ায় বুঝতে পারেন ভূলটা নিজের তাহলে সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিন। ভদ্রলোক বললেন যদি ভূলটা আমার না হয়, মনোবিদের স্মার্ট উত্তর তাহলে চেপে যান। আপনি মৌনি সাধু আর স্পিৎজ এর কম্বিনেশ হলে সংসারে সুখ থাকবে। এই আপ্ত বাক্যটা বোঝেননি উত্তর প্রদেশের রাম প্রবেশ। বয়স ৪২ বছর।

বিয়ে করে আনা চন্দ্রমুখী বৌ কবে যে জ্বালামুখী রূপ নিয়েছেন বুঝতে পারেননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঝগড়া রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একই ছবি। বাজার নিয়ে ঝগড়া, বাড়ি পরিস্কার নিয়ে ঝগড়া, বাপের বাড়ির মানুষদের নিয়ে কথা উঠলে ঝগড়া। শ্বশুর বাড়ির মানুষদের নিয়ে ঝগড়া। সংসার অসার। সাধু হয়ে হিমালয়ে চলে যাবার কথাও ভেবেছেন একাধিক বার।

কিন্তু ওই যে যেতে পারি কিন্তু কেন যাব? শেষ পর্যন্ত সংসারের উপর যারপরনাই বিরক্ত হয়ে চড়ে বসলেন আশি ফুট লম্বা পাম গাছে। ওখানেই বাঁধলেন নিজের ঘর। বাড়ির লোক অনেক বাবা বাছা করেও ধনুক ভাঙা পণ ভাঙতে পারেননি রাম প্রবেশের। মাটির সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখবেন না তিনি।অগত্যা ওপর থেকে ঝোলানো দড়িতেই বেঁধে দেওয়া হতে লাগল খাবার আর জলের বোতল।

বড়বাইরে বা ছোট বাইরে সবই হত গভীর রাতে কিংবা ভোরের দিকে লোক চক্ষুর আড়ালে। বাধ্য হয়ে পুলিশ ডাকতে হল। পুলিশ এলো নরমে গরমে বোঝালো, কিন্তু রাম যদি গাছে চড়ে তাহলে দেবতারাই অসহায়, কুত্রাপি মনুষ্যা? শেষ পর্যন্ত পুলিশও ভিডিও তুলে বিদায় নিল।রাম প্রবেশ গাছের মগডালে দিন কাটাতে লাগলেন দিব্য। স্বামী স্ত্রীর সমস্যা গোটা গ্রামের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল। গাছের ওপর থেকে গ্রামের নীচু নীচু বাড়ি গুলির অনেক কিছুই দেখা যায়, যা দেখা বাঞ্চনীয় নয় মোটেই। যার ফলে স্বস্তিতে নেই গ্রামের কেউই। তবে রাম প্রবেশ এখন একটা নাম বটে।