একদিকে ফর্ম-৬ নিয়ে প্রবল উত্তেজনা, অন্যদিকে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের নিষ্পত্তি নিয়ে কমিশন বনাম রাজ্যের শাসকশিবিরে অদৃশ্য যুদ্ধের আবহে এদিন এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলল। এবং, শীর্ষ আদালতকে দেওয়া রিপোর্টে কলকাতা হাইকোর্ট জানাল, এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষের মধ্যে ৪৭ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। এমতাবস্থায়, রাজ্য তথা রাজ্যের শাসক শিবিরের আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির এজলাসে জানালেন, 'বাদ'-এর সংখ্যাই বেশি, প্রায় অর্ধেক।
সওয়াল-জবাব
কমিশনের আইনজীবী: সাতটি জায়গায় (বাড়িতে) ট্রাইবুনাল হবে । জুডিশিয়াল অফিস-সহ সাতটি জায়গা বেছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তা জানানো হয়ছে। আজ প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। কাল থেকেই শুরু শুরু হবে ট্রাইবুনাল।
বিচারপতি: এটা কি একদিনের প্রশিক্ষণ? এই প্রশিক্ষণে ঠিক কী সুবিধা হবে?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: কেনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে (ট্রাইবুনালে উপস্থিত) প্রাক্তন বিচারপতিদের?
কমিশন: একটা অন্য ধরনের কাজ তাঁরা করতে চলেছেন। তাই সেই সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা হবে। যাতে কাজ কিছুটা সহজ হয়।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শুধু কলকাতা হাইকোর্টে নয়, জেলা বিচারকদের কাছেও তাঁদের দাবি জানাতে পারেন।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য: ট্রাইবুনালে আবেদনকারী ভোটারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিচার করে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন যে তথ্য দিচ্ছে, তাকে যেন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া না-হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: মূল তালিকা বেরোনোর পর যাঁরা বিবেচনাধীন, তাঁদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সেখানে যাঁদের নাম নেই, বা থাকবে না, তাঁদের জন্য ট্রাইবুনালের ব্যবস্থা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার পরে পরেও ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ালো নির্বাচন কমিশন। কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার নির্বাচন কমিশনের দফতারে গুচ্ছগুচ্ছ ফর্ম-৬ নিয়ে আসছেন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। আমি নির্দিষ্ট করে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলছি না। কলকাতা হাইকোর্টের পাশে ওই বাড়ি অবস্থিত হওয়ায়, আমরা নিজে দেখেছি, একজন আইনজীবী হিসেবে। আমি ভিডিয়ো দেখাতে পারি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কেন একজন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ট্রাইবুনালে সেই ব্যক্তি গেলে যেন তাঁর কারণ জানাতে হবে। আমরা দেখছি, কোন তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। ভোট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার। যদি কোনো ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয় এবং তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন এবং পরে যদি একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ট্রাইবুনাল রায় দেয় তাঁর পক্ষে, তাহলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাই, মনে রাখবেন, যদি কেউ এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, চিরতরে তাঁর ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফর্ম-৬, নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় : চূড়ান্ত তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনের কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল-বান্ডিল ফর্ম-৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?
প্রধান বিচারপতি: অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না।
কমিশনের আইনজীবী : আইন অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ দেওয়া যায়। যে কেউ দিতে পারেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: একজন ব্যক্তিই ৩০,০০০ ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতি: এটা প্রতিবারই হয়। এটা প্রথমবার নয়। আপনারা চাইলে আপত্তি জানাতে পারেন।
কপিল সিবাল: আমরা কখনোই জানতে পারব না তারা কারা।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় : ফর্ম-৬ দিয়ে নতুন অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বুথ অনুযায়ী জানানো হোক, যাতে আপত্তি জানানো যায়।
কমিশন: আইনে বলা আছে ফর্ম-৬ জমা দেওয়া একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়। সেকশন- ২০ দেখুন। সেখানে ফর্ম-৬ নিয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে। আইনের ধারা ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা রাখেন, তাঁরও সেই অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, কেউ বাধা দিতে পারে না। যদি কারও কোনও আপত্তি থাকে, তাহলে ফর্ম-৭ বাদ জমা দিয়ে আপত্তি করতে পারেন তিনি।
আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান: আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং বাদ পড়ার হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। যা অত্যন্ত বেশি।
প্রধান বিচারপতি: আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।