দূরের পাইন বনের মাথা ছুঁয়ে চাঁদের আলো মাখা মেঘ ধাক্কা মারবে আপনার জানলার কাচের শার্সিতে। একটি নাম না জানা পাখি উড়ে গেল ডানা ঝাপটে। বছরের এই সময়ে পাহাড়ের আকাশ সাধারণত মুখ গোমরা করে রাখে। তবে যখ...
দূরের পাইন বনের মাথা ছুঁয়ে চাঁদের আলো মাখা মেঘ ধাক্কা মারবে আপনার জানলার কাচের শার্সিতে। একটি নাম না জানা পাখি উড়ে গেল ডানা ঝাপটে। বছরের এই সময়ে পাহাড়ের আকাশ সাধারণত মুখ গোমরা করে রাখে। তবে যখন আকাশ পরিস্কার থাকে মনে হবে জোনাকি মোড়া চাদোয়া টাঙানো আছে এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত। জমাট বাধা অভিমানের মত পাহাড়চূড়ার বরফ। ভোরের কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনা আভা এসে সোনালী করে দেবে আপনার ব্যালকনিতে রাখা পাহাড়ি ফুলের মুখ। সমুদ্র থেকে ৫২০০ ফুট উপরে কালিম্পং এর কাফের। সামনেই লোলেগাঁও এর নাম যদি বা শুনেছেন। কাফের এখনও অনাঘ্রাতা।
পাহাড়ের কোলে ছোট্ট একটি গ্রাম। মেরেকেটে ১৫০ থেকে ২০০ জনের বাস এই গ্রামে। প্রকৃতি ঢেলে সাজিয়েছে বটে। কিন্তু এই গ্রামে আপনার জন্য নেই কোনও বিলাশবহুল হোটেল। নেই রঙিন কাচ মোড়া পানশালা অথবা ঝলসানো মাংস। আছে অপার শান্তি আর সরল কিছু মানুষের উষ্ণ ভালোবাসা। চোখের সামনে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গের নজর জ্বালানো রূপ। মেঘের আনাগোনা, চোখের উপর সবুজের কাজল। এক কাপ মল্টেড কফি হাতে আপনি ও আপানার উনি। কালীদা এই তো জীবন। ছোট্ট গ্রামটায় কোনও দূষণ নেই। দশটা পাঁচটার তাড়াহুড়ো নেই। হালকা একটু টিফিন করে বেরিয়ে পড়তে পারেন জঙ্গল ভ্রমণে। ইচ্ছে করে কোনও দিন পথ হারিয়েছেন? একটু পথ হারান।
সঙ্গীর নখওয়ালা হাতটা যখন আপনার হাত খামচে ধরবে,মন্দ লাগবে না। চাইলে লোয়ার কাফের পায়ে হেঁটেই ঘুরে দেখতে পারেন। প্রতিটা বাড়িতে দেখতে পাবেন সাদা জীবন আর রঙীন ফুল। এখান থেকে সময় পেলে ঘুরে আসবেন লাভা লোলেগাঁও রিশপ। ভোরের সূর্য দেখতে ঘুরে আসতে পারেন ঝান্ডিদাড়া। এবার প্রশ্ন হল আপনি কাফের যাবেন কী করে? নিউ মাল স্টেশন থেকে কাফেরের দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটারের মত। গাড়ির চাকায় সময় লাগবে কমবেশি তিন ঘণ্টা। লোলেগাঁও এসে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে যাবেন এই পাহাড়ি গ্রামে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কালিম্পং, লাভা হয়েও আসা যায় এখানে। তাহলে আর দেরী কেন বুক করে নিন ট্রেনের টিকিট।