অসীম সেন: আফিম সেবনের পর কমলাকান্তের দুগ্ধ পান অত্যন্ত জরুরী। ইদানিং দেখিতেছেন প্রসন্নর আনিত দুগ্ধে জলের পরিমাণ অনেকাংশেই বেশি। কমলাকান্ত তো দুগ্ধের মূল্যে জলের পয়সা দেন না। এই নিয়ে প্রসন্ন গোয়ালিনির...
অসীম সেন: আফিম সেবনের পর কমলাকান্তের দুগ্ধ পান অত্যন্ত জরুরী। ইদানিং দেখিতেছেন প্রসন্নর আনিত দুগ্ধে জলের পরিমাণ অনেকাংশেই বেশি। কমলাকান্ত তো দুগ্ধের মূল্যে জলের পয়সা দেন না। এই নিয়ে প্রসন্ন গোয়ালিনির সহিত তুুতু ম্যায় ম্যায় হইয়া গেল। প্রসন্নের দাবি মঙ্গলা এখন পাতলা দুগ্ধ দিতেছে, তার করণীয় কী? এরূপ অর্বাচীন আর তস্কর মহিলার সহিত বাগবিতণ্ডা তাঁহার মতন এলিট ক্লাস পিউপিলের শোভা পায় না। তাছাড়া দ্বিপ্রহরে আফিমের ঝিমুনিটা মাটি করতে চায় কে? এমন সময় তাঁর দিব্যচক্ষু উন্মীলিত হয়। কমলাকান্ত দেখিলেন,
দুগ্ধের ক্যান লইয়া নয়া দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতাকে দেখিতে অনেকটা প্রসন্ন গোয়ালিনির মতন বোধ হইতেছে। কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব সকলের নিকট আদালতের বাদি পক্ষের ন্যায় অভিযোগ জানাইতেছেন, মঙ্গলা গাভীর ওপর আমার হক। গত দেড় দশক ধরিয়া দোহন করিতেছি। এই কার্যে আমার লোকজনও নিয়োজিত। আর রাহুল কিনা সেই মঙ্গলার দুগ্ধের ভাগ চায়? এমন অভিযোগে রাহুলের সঙ্গে নিজেকে গুলিয়ে ফেললেন কমলাকান্ত। আফিমের নেশা গুলিয়ে যায় যায়। হঠাৎ দেখলেন স্বপ্নের বাঁদিকের ওপরে লেখা আছে ফাইল ছবি, ২০২৪। এইবার কিছুটা আশ্বস্ত হলেন কমলাকান্ত। এ স্বপ্ন আজকের নয়। লোকসভার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোঁসফোঁসানি।
তখন তাঁর দাপট দেখে কে? আসন সমঝোতা এবং ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাংলায় কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সাথে আসন সমঝোতার কোনও সম্ভাবনা নেই। বলছেন কংগ্রেসের আচরণে তিনি অপমানিত এবং অসন্তুষ্ট। কটাক্ষ করেছেন বাম-কংগ্রেসের আঁতাঁতকে। একের পর এক বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন নানা আছিলায়। হঠাৎ করিয়া আকাশ পানে গেরুয়া আলো দেখা দিল। কমলাকান্ত মনে মনে সংশয় প্রকাশ করিলেন, আমি তো আফিম সেবন করিয়াছি এলএসডি নয়। তারপরে ভ্রম ভাঙল। পালাবদল হইয়াছে।
আবার দেখিলেন প্রসন্ন গোয়ালিনী মমতার রূপ ধরিয়া নিজের সপক্ষে সওয়াল করিতেছেন। ইতিমধ্যে কালীঘাটের গোয়ালে গিয়েছিলেন অখিলেশ রূপী কালোকোট উকিল। মমতার হয়ে নানান সওয়াল করছেন। প্রসন্নও এখন নব উৎসাহে দিল্লিতে। ভ্রাতুস্পুত্র এখন দিল্লি যাওয়ার সময় করিয়া উঠিতে পারিতেছেন। সানডে ইয়া মনডে, রোজ খাও আন্ডে। ভ্রাতুস্পুত্রের সুমতি হইয়াছে। প্রসন্ন এখন মুক্ত বিহঙ্গ। ডাল খুঁজিয়া বেড়াইতেছেন। শক্তিশালী ইন্ডিয়া জোটের ডাক দিয়াছেন ইতিমধ্যে। তিনি নিজেকে প্রাসঙ্গিক করিবার জন্য আপাতত সোনার পাথরবাটিতে মঙ্গলার দুগ্ধ খাইতে প্রস্তুত। মুখে যদিও তীব্র বাম বিরোধিতা দেখাইয়া নিজের মেরুদণ্ডকে দধিচির অস্থির ন্যায় দৃঢ় প্রমাণ করিতেছেন। তবুও বিজেপি বিরোধী বিকল্প হিসেবে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখেছেন ষোল আনা।
নিম্ন আদালতের রায়ে মঙ্গলার দুগ্ধ দোহানোর অধিকার আপাতত হারিয়েছেন। এবার ২০২৯ এ উচ্চ আদালতেও যদি ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন হন। তাহলে তো দুকূল হারাইয়া, আমায় ডোবাইলিরে আমায় ভাসাইলিরে গান গাওয়া ছাড়া রাস্তা থাকে না। তাই একমাত্র লক্ষ ২০২৯ এ বিজেপিকে বিতারণ। কাজটা যে অবন ঠাকুরের ক্ষীরের পুতুলের মতই অলৌকিক তা জানেন মমতা। তবুও নিজের জমি থেকে উৎখাত হয়ে তীব্র ঘূর্ণির মধ্যে যখন পড়িয়াছেন তখন খড়কুটোতেই তো ভরসা রাখতে হবে। এক্ষণে সমুচিত জবাব পাইয়া কমলাকান্ত ফের নিদ্রা গেলেন।rnrnrn