অসীম সেন: ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি। আট বছর বন্দি রেখে, রোমের কাম্পো দে ফিওরি চত্বরে খুঁটিতে বেঁধে, পুড়িয়ে মারা হয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও দার্শনিক জিওর্দানো ব্রুনোকে। তাঁর অপরাধ তিনি ত্রিত্ববা...
অসীম সেন: ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি। আট বছর বন্দি রেখে, রোমের কাম্পো দে ফিওরি চত্বরে খুঁটিতে বেঁধে, পুড়িয়ে মারা হয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও দার্শনিক জিওর্দানো ব্রুনোকে। তাঁর অপরাধ তিনি ত্রিত্ববাদকে অস্বীকার করেছিলেন তিনি দাবী করেছিলেন মহাবিশ্ব অসীম এবং এর কোনও নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই। তারও হাজার হাজার বছর আগে ঋষি গর্গ শ্রীকৃষ্ণের নামকরণের সঙ্গে সঙ্গে নক্ষত্রমণ্ডলী, চন্দ্রের তিথি এবং গ্রহের অবস্থান নির্ণয়ে নির্ভুল গণনা করেছিলেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান যখন অঙ্কে ব্যস্ত ছিল তখন বহির্ভারত হয়ত কৃষিকাজও শেখেনি।
একটা শ্লোক এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। আজ থেকে ন্যুনতম পাঁচ হাজার বছর আগে মহাভারতের ভীষ্ম পর্বে লেখা হয়েছিল, "যৈষা প্রকাশতে রাজংস্ত্রৈলোক্য সাধুসম্মতা। অরুন্ধতী তয়া পীর্যং বশিষ্ঠঃ পৃষ্ঠতঃ কৃতঃ " যার অর্থ আকাশে যে পতিব্রতা অরুন্ধতী ত্রিভূবনে সমাদৃত, তিনি আজ বশিষ্ঠকে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলেছেন। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং প্ল্যানেটোরিয়াম সফটওয়্যারের সিমুলেশন ব্যবহার করে গবেষকরা দেখেছেন যে পৃথিবীর অক্ষের অয়নচলনের কারণে আকাশী অবস্থানে অরুন্ধতী বা অ্যালকর নক্ষত্রটি বশিষ্ট বা মিজার এর আগে অবস্থান করছিল। মহাভারত রচিত হয়েছিল আনুমানিক পাঁচ হাজার বছর আগে। তবে কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করেন এই নক্ষত্র-দর্শনের নিখুঁত সময়কাল আজ থেকে প্রায় ৭৫০০ বছর আগের।
ভাবা যেতে পারে? এই দুই সুক্ষ্ম নক্ষত্রকে চিহ্নিত এবং তাদের মধ্যেকার বিশেষ গতিবিধি বুঝতে পেরেছিলেন। হিন্দু পুরাণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী অরুন্ধতী ও বশিষ্ট হলেন সপ্তর্ষি মণ্ডলের পাশাপাশি অবস্থান করা যমজ নক্ষত্র। সনাতন ধর্মে এই দুই নক্ষত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানে অরুন্ধতী ও বশিষ্ঠ নক্ষত্র দুটিকে দাম্পত্য প্রেম, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অটুট সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী বশিষ্ঠ ছিলেন সপ্তর্ষিদের অন্যতম তাঁর স্ত্রী অরুন্ধতী ছিলেন শ্রেষ্ঠ পতিব্রতা। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ চিরস্মরণীয়। ঋগ্বেদ, শিবপুরাণ, বিষ্ণু পুরাণে এই দুই নক্ষত্রের উল্লেখ রয়েছে। যদিও পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিজ্ঞানে এই দুই নক্ষত্র সম্পর্কে বিষদ জ্ঞান মেলে টেলিস্কোপের সাহায্যে ১৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে।rnrn