অসীম সেন: ডিজে বাজছে। তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে। সবুজ আবির উড়িয়ে নাচছে নন্দী-ভৃঙ্গির দল। এমনটা তো হতেও পারত। যদি হত, তাহলে এতক্ষণে বসুন্ধরার পঞ্জর তলে কম্পন জাগত। কিন্তু তেমনটা হল না।...
অসীম সেন: ডিজে বাজছে। তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে। সবুজ আবির উড়িয়ে নাচছে নন্দী-ভৃঙ্গির দল। এমনটা তো হতেও পারত। যদি হত, তাহলে এতক্ষণে বসুন্ধরার পঞ্জর তলে কম্পন জাগত। কিন্তু তেমনটা হল না।বিসর্জ্জি প্রতিমা যেন দশমী দিবসে! দিকে দিকে ঘাসফুল মুর্ছা গেল। পদ্মাসনে বাংলা। চোদ্দ তলায় হাম্বা হাম্বা রম্ভা রম্ভা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
বাকি রইল ফলতা। শুভেন্দু গেলেন, শমিক গেলেন নিমন্ত্রণ জানালেন যুবরাজকে। কিন্তু তিনি কোথায়? উত্তরে পাহাড়, দক্ষিণে সমুদ্র যার অঙ্গুলিহেলনে তাণ্ডব নাচত। তিনি যদি গোঁসা ঘরে খিল দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই সব বীর যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? বীর নাচন যাদের প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল তারা আজ দাদা বিনা মুখ লোকানোর জায়গা পাচ্ছে না। শিয়ালের বাঘের চামড়া কিংবা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পড়ার গল্প পুরানো। এখন তারই ডাইরেক্ট ইমপ্লিমেন্ট দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেখানেও তো রাস্তা বন্ধ।
শুভেন্দু বাবু কিন্তু হেরে যাবার পর মুখ লোকাননি। তিনি কিন্তু বুক পেতে রক্ষা করেছিলেন দলের কর্মীদের। এখানেই কি পার্থক্য তৈরি হচ্ছে? নেতা সাজা আর নেতা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে বইকি। আপনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে পিসির দৌলতে রাজনীতির উপর মহলে পৌঁছিয়েছিলেন। জমি চষা আপনার কাজ নয়। তাই দুর্বিপাকে মুখ লোকাতে হয়েছে।
ফলতায় নির্বাচন। আপনার ছায়াসঙ্গী জাহাঙ্গির অসহায়ের মত হাবুডুবু খাচ্ছে। হঠাৎ করে চরম বোধদয়ের পাল্লায় পড়ে সরে দাঁড়ালো নির্বাচনী লড়াই থেকে। আসল কথা আপনিতো দূরের কথা, কোনও ঘাসকুঁটোও খুঁজে পাচ্ছে না আপনার দলের বীর সৈনিক। এরপরেও যদি ঠাণ্ডাঘরে বসে কোনও ভাবে আপনার মুখ থেকে পরিবর্তনের কথা মানুষ শোনে, তাহলে তা মানবে কেন?