কোন পথে জলপাইগুড়িহিমালয়ের পাদদেশে জলপাইগুড়ি। ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি সবদিক থেকেই সমৃদ্ধ। ভোট আসতে না আসতেই জেলার একাধিক ইস্যু প্রকট হয়ে উঠছে। আমরা বাংলা তুমি কার অনুষ্ঠানে আলোচনা করব জলপাইগুড়ি...
কোন পথে জলপাইগুড়ি
হিমালয়ের পাদদেশে জলপাইগুড়ি। ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি সবদিক থেকেই সমৃদ্ধ। ভোট আসতে না আসতেই জেলার একাধিক ইস্যু প্রকট হয়ে উঠছে। আমরা বাংলা তুমি কার অনুষ্ঠানে আলোচনা করব জলপাইগুড়ি জেলা নিয়ে। সবার আগে চিনে নেওয়া যাক জেলাটিকে।
জেলার সীমানা
বাংলার উত্তরে তিস্তা আর চা বাগান দিয়ে সাজানো ডুয়ার্স অঞ্চলের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে জলপাইগুড়ি জেলা। জেলার উত্তরে ভুটান ও কালিম্পং, পূর্বে আলিপুরদুয়ার দক্ষিণে কোচবিহার জেলা ও বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা। এবং পশ্চিমে দার্জিলিং। জলপাইগুড়ি জেলা বর্তমানে সেজে উঠছে ভোট উপলক্ষে। জলপাইগুড়ি জেলায় মোট সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্র রয়েছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মাল, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটা, রাজগঞ্জ
ভোট ইতিহাস, ভোটফল
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি
২০১৬ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল ঘাসফুল। জিতেছিলেন তৃণমূলের গৌতম দেব। ২০২১ সালের নির্বাচনে সিনারিও সম্পূর্ণ বদলে যায়। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায়।
ধূপগুড়ি
ধূপগুড়ি বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের মিতালী রায়। ২০২১ সালে এখানেও পাশা বদলে গিয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির বিষ্ণুপদ রায়।
নাগরাকাটা
নাগরাকাটায় ২০১৬ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুকরা মুন্ডা। ২০২১ সালে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২১ সালের বিধানসভায় এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির পূর্ণা ভেঙ্গা
ময়নাগুড়ি
ময়নাগুড়ি বিধানসভায় ২০১৬ সালে ঘাসফুল উড়েছিল। জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অনন্তদেব অধিকারী। ২০২১ সালে ময়নাগুড়িতে ওড়ে গেরুয়া পতাকা। জিতেছিলেন কৌশিক রায়।
জলপাইগুড়ি
২০১৬ সালে জলপাইগুড়ি বিধানসভাকেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের সুখবিলাশ বর্মা। হারিয়েছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দি তৃণমূলের ধাত্রীমোহন রায়কে। ২০২১ সালে কংগ্রেসের হাত থেকে বিধানসভাকেন্দ্রটি চলে গিয়েছে তৃণমূলের কাছে। জয়ী হয়েছিলেন প্রদীপকুমার বর্মা
রাজগঞ্জ
২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের খগেশ্বর রায়। ভেঙে দিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের বাম দূর্গ। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন খগেশ্বর রায়।
মাল
মাল বিধানসভা কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে তৃণমূলের পতাকা উড়িয়েছিলেন তৃণমূলের বুলুচিক বড়াইক।
অর্থাৎ সাত আসনের জলপাইগুড়ির চার আসন ২০২১ সালে ছিল বিজেপির দখলে এবং তৃণমূলের দখলে ছিল তিনটি আসন। লোকসভা নির্বাচনে নাগরাকাটা চলে গিয়েছে আলিপুরদুয়ারে। আবার মেখলিগঞ্জ জলপাইগুড়ির মধ্যে এসেছে। ২০২৯ এবং ২০২৪ সালে জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রটি জিতেছেন বিজেপির জয়ন্তকুমার রায়। সুতরাং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে জলপাইগুড়ি বিজেপির শক্ত ঘাটি। একটা সময় জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিএম এর সংগঠন শক্তিশালী থাকলেও, ২০২৬ সালে এই জেলায় লড়াই মূলত দুই ফুলের মধ্যে
এবারের ভোট ইস্যু
বর্তমানে জলপাইগুড়ির প্রধান সমস্যা অবশ্যই বেহাল রাস্তাঘাট। রাস্তার সঠিক সংস্কার না হওয়ায় ধুলোর জেরে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে থানা মোড়, কদমতলা এবং ডিবিসি রোড সংলগ্ন রাস্তায় ধুলোর প্রকোপ সবথেকে বেশি। জলপাইগুড়ি জেলার সবথেকে জ্বলন্ত ইস্যু ভূমিক্ষয়। চা বাগান গুলি ধুঁকছে। কাজ হারাচ্ছেন বহু শ্রমিক। তাছাড়া কাজলদিঘি চিলাহাটি নাওতরী-নবাবগঞ্জ, নাওতরী-দেবোত্তর এই পাঁচটি গ্রাম স্বাধীনতার পর থেকেই বিতর্কিত ছিল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের পরেও জমির খতিয়ান মেলেনি। ফলে, জমি বেচা-কেনা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পে কার্যত ব্রাত্য এই পাঁচটি গ্রাম। উত্তরবঙ্গের দিকে রাজ্যের নজর নেই এই বিষয়টি অনেকাংশেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা।